ঝিনাইদহে পিঁয়াজের দাম কম হওয়ায় বিপাকে চাষি !

স্টাফ রিপোর্টার,ঝিনাইদহঃ
পশ্চিমাঞ্চলের পাঁচ জেলা ঝিনাইদহ, মাগুরা, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরের বাজারে নতুন পিঁয়াজ ওঠার পর দরপতনে চাষির মাথায় হাত। গত বছরের চেয়ে অর্ধেক দামে পিঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে নতুন তাহেরপুরি ও ফরিদপুরি জাতের পিঁয়াজ প্রতিমণ চারশ’ টাকা থেকে সাতশ’ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর মেহেরপুরে সুখসাগর জাতের পিঁয়াজ সাত/আট টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।্ এত কম দামে পিঁয়াজ বিক্রি করে চাষির লাভ থাকছে না।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে ঝিনাইদহ, মাগুরা, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, যশোর ও মেহেরপুর জেলায় ৩০ হাজার ১৭৫ হেক্টরে পিঁয়াজ চাষ হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাস থেকে নতুন পিঁয়াজ উঠতে শুরু করেছে। দেশের অন্যতম প্রধান পিঁয়াজ উৎপাদনকারী এলাকা হচ্ছে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা।

এ উপজেলার এবার সাত হাজার হেক্টরে পিঁয়াজ চাষ হয়েছে। শনিবার শৈলকুপা হাটে আনুমানিক ২০ হাজার মণ পিঁয়াজ বিক্রির জন্য উঠে। প্রতিমণ চারশ’ টাকা থেকে সাতশ’ টাকা দরে বিক্রি হয়। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ব্যাপারীরা পিঁয়াজ কিনে ট্রাকযোগে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, বরিশালসহ বিভিন্ন শহরে চালান নিয়ে যায়।

বনগ্রামের পিঁয়াজ চাষি মজনু শেখ বলেন, আড়াই বিঘা জমিতে পিঁয়াজ চাষ করেছেন। চাষে খরচ হয়েছে ৪০ হাজার টাকা। তিনি সাড়ে তিনশ’ টাকা মণ দরে পিঁয়াজ বিক্রি করেছেন। হাটে আনতে মণ প্রতি ভ্যান ভাড়া লেগেছে ৫০ টাকা করে। একই গ্রামের চাষি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, দুই বিঘা জমিতে পিঁয়াজ চাষ করেছেন। ৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এ দামে পিঁয়াজ বিক্রি করে লাভ থাকবে না। রবিবার মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার লাঙ্গলবন্দ হাটে বিপুল পরিমাণ পিঁয়াজ বিক্রির জন্য চাষিরা নিয়ে আসে। কিন্তু যে দাম তাতে চাষিরা হতাশ হন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিসের অতিরিক্ত পরিচালক চন্ডিদাস কুন্ডু বলেন, এ অঞ্চলে এবার পিঁয়াজ চাষ বেড়েছে। ফলনও ভালো হয়েছে। দামের ব্যাপারে তাদের কিছু করণীয় নেই। ব্যবসায়ীরা জানান, ভারতীয় পিঁয়াজের আমদানি বৃদ্ধির ফলে দরপতন হয়েছে।

0 Comments

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password

Register