বুধবার, এপ্রিল ১৬, ২০১৪
সর্বশেষ
জীবনের যেকোনো কাজে সফল হওয়ার উপায়(পর্ব ১)

জীবনের যেকোনো কাজে সফল হওয়ার উপায়(পর্ব ১)

আসসালামুয়ালাইকুম। সবাই কেমন আছেন? আমি বিশ্বাস করি সবাই ভাল আছেন। আমিও অনেক ভাল। শিরনাম দেখে অনেকেই কিছুটা বুজতে পেরেছেন আমি কি লিখবো। আমাদের জিবন আসলে একটা চক্র (জন্ম থেকে মৃত্যু)।

এই ছোট্ট জিবনে আমরা অনেক বড় হতে চাই। কিন্তু আমাদের মাঝে হতাশা কাজ করে ।আর এই হতাশা দূর করার জন্য আমার এই টিউন । টিউনগুলোকে আমি ১০টি পর্বে সাজিয়েছি। আশাকরি সবাই খুব মনোযোগ দিয়ে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়বেন।
আজকে আমি সবার সাথে জিবনের প্রয়জনিয় কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো।

একজন লোক মেলায় লাল-নিল-সবুজ ইত্যাদি অনেক রঙয়ের বেলুন বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতো । কখনো কখনো তার বিক্রি কমে গেলে সে হিলিয়াম গ্যাসে ভর্তি একটি বেলুন আকাসে উড়িয়ে দিত। বেলুনটিকে আকাশে উড়তে দেখে উৎসাহী বাচ্চারা বেলুনগুলোর কাছে ভিড় করে তার বিক্রি বাড়িয়ে দিত। সারাদিন এই পদ্ধতিতে বেলুন বিক্রি করত । একদিন পিছন থেকে জামায় টান পরাতে বেলুনয়ালা মুখফিরিয়ে দেখল একটা বাচ্চা ছেলে । বাচ্চা ছেলেটি বলল “কালো রঙয়ের বেলুন কি আকাশে ঊরে?” বালকটির অত্তাধিক আগ্রহ লক্ষ্য করে লোকটি তাকে আশ্বস্ত করে বলল, “ভাই , রঙয়ের জন্য আকাশে ঊরে না , বেলুনের ভিতরের গ্যাস বেলুনকে আকাশে উড়ায়”।
আমাদের জিবনেও একথা সত্য । আমাদের ভিতরে কি আছে সেইটাই প্রধান। আমাদের ভিতরের যে জিনিসটি আমাদের উপরে উঠতে সাহায্য করবে তা হল আমাদের মানসিকতা। আমরা যদি মানসিকতা ঠিক করে একটা সিন্ধান্তে উপনীত হই যে আমি ইহা পারবোই। তাহলে আপনি দেখবেন যে আপনি সেই কাজে সফল।

যেকোনো কাজে আপনি প্রথমে পরাজিত হতে পারেন,কিন্তু এর অর্থ এই না যে আপনি পারবেন না। আমেরিকা প্রক্তন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন জিবনে অনেক বার পরাজিত হয়েছেন। তার পরাজয়ের কাহিনী নিম্নরূপঃ
২১ বছর বয়সে তিনি বিজনেসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
২২ বছর বয়সে আইন সভার নির্বাচনে পরাস্ত হন।
আবার ২৪ বছর বয়সে তিনি বিজনেসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
২৬ বছর বয়সে তার প্রিয়তমা মারা যায়।
৩৪ বছর বয়সে তিনি কংগ্রেস নির্বাচনে পরাস্ত হন।
৪৫ বছর বয়সে তিনি সাধারন নির্বাচনে পরাস্ত হন।
ভাইস প্রেসিডেন্ট হওয়ার চেষ্টায় নিরাস হন ৪৭ বছর বয়েসে ।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন ৫২ বছর বয়েসে ।
একেই কি ব্যর্থ বলে? না। আব্রাহাম লিংকন এর মতে “পরাজয় মানে সমাপ্তি নয়,যাত্রা একটু দীর্ঘ হয় মাত্র”।
বিজয়ীরা সবসময় যেকোনো সমস্যা মোকাবেলা করতে প্রস্তুত ।বিজয়ী দের আচারন নিচে দেয়া হলঃ

বিজয়ী বনাম বিজত

*বিজয়ীরা সব প্রশ্নের উত্তর খোঁজেন – বিজিতরা প্রশ্নের সমস্যা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন।
*বিজয়ীদের একটি কার্যক্রম থাকে – বিজিতদের থাকে সব বিষয়ে অজুহাত।
*বিজয়ীরা বলেন তোমার হয়ে কাজটা করে দিচ্ছি – বিজিতরা বলেন এটা আমার কাজ নয়।
*বিজয়ীরা বলেন কাজটা কঠিন কিন্তু করা সম্ভব – বিজিতরা বলেন কাজটা করা গেলেও খুব কঠিন।
*বিজয়ীরা বলেন আমি অবশ্যই কিছু করবো – বিজিতরা বলেৎ “কিছু করা উচিৎ”

নিজের বিবেককে প্রশ্ন করেন,আপনি বিজয়ী না বিজিত?

Print Friendly

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>