জামায়াত নিয়ন্ত্রণ আরও খর্ব হচ্ছে ইসলামী ব্যাংকে

সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে জনসংযোগ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা বিভাগের প্রধানকেও।

১৯৭১ সালে যুদ্ধাপরাধের জন্য দায়ী জামায়তে ইসলামীর নিয়ন্ত্রণাধীন ব্যাংকটিতে সরকারি উদ্যোগে হস্তক্ষেপের পর থেকে গত পাঁচ মাসে রাজনৈতিক দলটির সমর্থকদের সঙ্গে নতুন ব্যবস্থাপনার মধ্যে টানাপড়েন চলছিল।

শনিবার ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় জামায়াত সমর্থক তিন কর্মকর্তার ভাগ্য নির্ধারিত হয় বলে দুজন পরিচালক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন।

তারা জানান, মানব সম্পদ বিভাগের প্রধান (ইভিপি) মাহবুব আলমকে অন্য বিভাগে বদলি করা হয়েছে। জনসংযোগ এবং সিএসআর বিভাগের প্রধানকেও বদলির সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এছাড়া সভায় এবার যাকাতের ৪৫০ কোটি টাকা ব্যাংকের উদ্যোগে সরাসরি বিতরণের পরিবর্তে প্রধানমন্ত্রীর যাকাত তহবিলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ইফতারের ১৩ কোটি টাকা সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সারা দেশে বিতরণের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।

ইসলামী ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যানের পদ ছাড়তে অধ্যাপক সৈয়দ আহসানুল আলম পারভেজকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার পর কড়া নিরাপত্তার মধ্যে শনিবার পরিচালনা পর্ষদের সভায় যোগ দেন তিনি।

ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দ আহসানুল আলম পারভেজ

বৈঠক শেষে আহসানুল আলম পারভেজ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাকে হুমকি দেওয়ার পর গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশ ও র্যা ব সদস্যদের নিরাপত্তায় বোর্ড সভায় যোগ দেই। সভায় আমাকে হুমকির বিষয়ে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। এবং আমাকে যথাযথ নিরাপত্তা দিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে অনুরোধ জানানো হয়।”

তিনি বলেন, “ইসলামী ব্যাংক আবারও স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত সমর্থকদের কব্জায় নেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। আমি সেটা ঠেকাতে গিয়েই নানা ধরনের হুমকির মুখে পড়েছি। কিন্তু আমি ভয় পাই না, হাল ছেড়ে দেব না। সব কিছু মোকাবিলা করে জামায়াত-স্বাধীনতাবিরোধীদের এই ব্যাংক থেকে বিতাড়িত করা হবে।”

ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের আরেক সদস্য অধ্যাপক কাজী শহীদুল আলম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “দুই রাজাকার হুমায়ুন বখতিয়ার এবং অধ্যাপক বোরহানকে পরিচালনা পর্ষদে ফের ফিরিয়ে আনতেই পারভেজ সাহেবকে হুমকিসহ নানা ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তারা দুজনই জামায়াতে ইসলামীর লোক এবং সাবেক পরিচালক।”

হুমায়ুন বখতিয়ার এখনও ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন বলে জানান শহীদুল আলম।

তিনি বলেন, “সামনে জাতীয় নির্বাচন। জামায়াত সমর্থক রাজাকারা চাইছে নির্বাচনের মাধ্যমে পট পরিবর্তন হলে তারা আবারও ব্যাংকটির দখল নেবে। সে কারণেই নানা ষড়যন্ত্র করছে তারা।”

দেশের কয়েকটি শিল্প গ্রুপ ব্যাংকটির বেশিরভাগ শেয়ার কিনে নিতে চাইছে বলে গুঞ্জন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বড় লোকেরা তো অনেক কিছুই কিনতে চায়। এক্ষেত্রেও চাইতে পারে।”

ব্যাংকটির চেয়ারম্যান আরাস্তু খান সম্পর্কে শহীদুল আলম বলেন, “চেয়ারম্যান নির্দলীয় লোক। উনি কোনো সমস্যা নয়। আমরা যেমন ব্যাংকটির ভালো চাই, চেয়ারম্যানও তেমনি চান।”

মতামত দিন

0 Comments

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password

Register