জাবি প্রেস ক্লাবের বিতর্কিত কর্মকান্ড, কলঙ্কিত সাংবাদিকতা

জাবি প্রতিনিধি:
সাংবাদিক নয় এবং গণমাধ্যমের সাথে জড়িত নয় এমন লোকদের সদস্য বানিযে বার
বার সাংবাদিকতা ও প্রকৃত সাংকাদিকদের বিব্রত করছে জাহাঙ্গীরনগ
বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাব নামে একটি সংগঠনের কতিপয় সাংবাদিক।
জানা যায়, ২০১৫-১৬ কার্যকালের কমিটির মেয়াদ শেষ হলে নির্বাচনের নতুন
সদস্যপদ আহ্বান করে সংগঠনটি। এতে গঠনতন্ত্রে বর্ণিত শর্ত অনুসরণ না করে
সদস্য হওয়ার শর্ত দেয়া হয়েছিল কর্মরত গণমাধ্যমের পরিচয়পত্রের ফটোকপি অথবা
নিয়োগপত্র, নামসহ সংশ্লিষ্ট পত্রিকায় অন্তত দুইটি সংবাদ,বিশ্ববিদ্যালয়ের
পরিচয়পত্র ইত্যাদি।
কিন্তু সদস্য বাছাইয়ের সময় এসব শর্তের প্রতি তোয়াক্কা করা হয়নি বরে
অবিযোগ করেছেন কয়েকজন সাংবাদিক। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, আগামী
নির্বাচনে জয়লাভের জন্য সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক তানজিদ বসুনিয়া জোরপূর্বক
১৫ জনকে সদস্যপদ দিয়েছেন।যাদের কোনো পত্রিকা, অনলাইন বা গণমাধ্যমের সাথে
কোনরকম  সংশ্লিষ্টতা নাই।
এসব সদস্যকে আগামী নির্বাচনে ভোটাধিকার দেওয়ার জন্য জোর প্রচেষ্টা
চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে তানিজিদ বসুনিয়ার বিরুদ্ধে। নাম প্রকাশে
অনিচ্ছুক এক সাংবাদিক বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার
মানুষের অবস্থা জাতির কাছে-বিশ্বের কাছে তুলে ধরবে এখানের সাংবাদিকরা। আর
তারাই যদি প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ক্ষমতা দখল করতে চায় তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের
জন্য তারা কিছু করবে এমন আশা করা যায়না।আর এবছর ভোটার তালিকায় যাদের নাম
আছে তাদের অনেকেই নিজের সদস্যপদ পাওয়ার কথা জানেন না। তিনি আরও বলেন,
বিভিন্ন সময় সাংবাদিকতা না করেও বেশ কিছু শিক্ষার্থী এই সংগঠনের সাথে
জড়িত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন নিপীড়ন, হুমকী-ধমকীসহ বিভিন্ন রকম অন্যায়
কাজে লিপ্ত হয়েছেন।
জাবি প্রেস ক্লাবের আরেক সদস্য জানান, সংগঠনের অধিকাংশ সদস্যদেকে না
জানিয়ে একদিনের মধ্যে সদস্য নবায়ন, ভোটার তালিকা প্রণয়ন, নির্বাচন কমিশন
গঠন ও নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে তানজিদ বসুনিয়া।
জানা যায়, সংগঠনের সংবিধানের নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই নিজের ইচ্ছে মত
নির্বাচন কমিশন গঠন, নির্বাচন কমিশন বাতিল, নির্বাচনের ফরম উত্তলন,
প্রার্থীতা প্রত্যাহার, প্রার্থীতা বাছাই এক রাতেই মধ্যেই করা হয়েছে।
পরে সংগঠনের সভাপতি রিজু মোল্লার নির্দেশে ভূয়া সাংবাদিকদের তালিকা থেকে
বাদ দেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনার সহযোগী অধ্যাপক সিকদার মো.
জুলকারনাইনের কাছে আবেদন করেন দুই সাংবাদিক।
এতে নির্বাচন কমিশনার ভোটার তালিকা সংশোধনের নির্দেশ দিলে ওই কমিশনারকে
বাদ দিয়ে বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. রেজাউল ইসলাম (শামীম রেজা) কে
নতুন নির্বাচন কমিশনার করা হয়।
সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাতেই সাধারণ সম্পাদক তানজিদ বসুনিয়া নিজের
ইচ্ছে মতো প্রার্থী নির্ধারন করে কে কোন পদে নির্বাচন করবে তা
প্রার্থীদেরকে বলে দিয়েছে। শুধু লোক দেখানো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। যারা
এই নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলবে তাদেরকে জামায়াত-শিবির বলে প্রচার করবে
বলেও সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এই সংগঠনের সাবেক এক সভাপতি নাম প্রকাশ না শর্তে  বলেন,  বর্তমান এই
সংগঠনে গণতন্ত্রের লেশ মাত্র নেই। নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে নিজেদের
স্বার্থ হাসিলের জন্য তাৎক্ষণাৎ এ ধরণের সিদ্ধান্ত নির্বাচনের নামে
প্রহসন ছাড়া কিছুই না।
এ সব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত তানজিদ বসুনিয়া সাংবাদিকদের বলেন, প্রথম
নির্বাচন কমিশনার সিকদার মো. জুলকারনাইনকে বাদ দিয়ে আমরা নতুন নির্বাচন
কমিশন গঠন করেছি। আর আমাদের অভ্যন্তরিন বিষয়ে কারর না জানাই ভালো।
সংগঠনের উপদেষ্টা সহকারী অধ্যাপক শেখ আদনান ফাহাদ বলেন, নির্বাচন কমিশনার
পরিবর্তন এবং আজ যে নির্বাচন হবে এসব বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। কারা এসব
সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাও জানি না।
প্রথম প্রধান নির্বাচন কমিশনার সহযোগী অধ্যাপক সিকদার মো. জুলকারনাইন
বলেন, আমি যতটুকু জানি তাদের নির্বাচন কমিশনার আমি। তারা আমাকে নির্বাচন
কমিশনার থেকে বাদ দিয়েছে তা আমি জানি না।
নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার সহযোগী অধ্যাপক মো. রেজাউল ইসলাম (শামীম
রেজা) বলেন, উপাচার্য বিষয়টি আমাকে দেখার জন্য বলেন। তাই আমি নির্বাচন
কমিশনার হয়েছি। কিন্তু জুলকারনাইনকে যে বাদ দেওয়া হয়েছে এ বিষয়ে আমি জানি
না।  যদি এই ঘটনা সত্য হয়ে থাকে তাহলে নির্বাচন স্থগিত করা হবে।
পরবর্তীতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মো. রেজাউল ইসলাম (শামীম
রেজা) নির্বাচন স্থগিত করেছেন বলে জানা যায়।

মতামত দিন

0 Comments

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password

Register