জাবি প্রেসক্লাবের সংকট, উপদেষ্টার পদত্যাগ

জাবি প্রতিনিধি:
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের ২০১৬-১৭ কার্যকালের জন্য
কার্যকরি পরিষদ নির্বাচন নিয়ে সাংবদিকদের দুই পক্ষের মধ্যে সংকট সৃষ্টি
হয়েছে। এই সংকট সমাধানে প্রধান উপদেষ্টাকে অমান্য করা হচ্ছে এমন অভিযোগে
পদত্যাগ করেছেন সংগঠনটির প্রধান উপদেষ্টা শেখ আদনান ফাহাদ।
এদিকে জাবি প্রেসক্লাবের এক পক্ষের কর্মকান্ডের প্রতিবাদে বিচার দাবি করে
এবং স্বচ্ছ ভোটার তালিকা প্রণয়নসহ নির্বাচনের দাবিতে উপাচার্যকে ৪৮ ঘন্টা
আল্টিমেটাম দিয়েছে জাবি প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা। উপাচার্যকে স্মারকলিপি
দেয়ার পর এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা জানান, ‘জাহাঙ্গীরনগর
বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের গঠনতন্ত্রকে তোয়াক্কা না করে এবং কোন প্রকার
নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করেই কতিপয়
স্বার্থন্বেষী মহল জাবি প্রেসক্লাবের কমিটি ঘোষণা করেছে। যা কোনভাবেই
গ্রহনযোগ্য  নয়। কতিপয় শিক্ষক নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে ওই কমিটিতে স্বাক্ষর
করেছেন। সব কিছুই জালিয়াতির মাধ্যমে করা হলেও উপাচার্যের নির্দেশেই সব
কিছু করা হচ্ছে বলে শিক্ষকবৃন্দ আমাদের জানান। এই অবৈধ কমিটি বহিস্কারের
দাবিতে আমরা ৪৮ ঘন্টা সময় বেধে দিয়ে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিলি দিয়েছি ।
আপনারা অবগত আছেন যে, বিভিন্ন গণমাধ্যমে জাবি প্রেসক্লাবের নির্বাচনের
জালিয়াতির খবর প্রকাশিত হওয়ায় গত ২১ এপ্রিল নির্বাচন স্থগিত করা হয়।
পরবর্তী ২৩ এপ্রিল জাবি প্রেসক্লাবের ৩৩ সদস্যর মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠের
সম্মতি নিয়ে উপাচার্য বরাবর নির্বাচনের জালিয়াতির বিচার ও সুষ্ঠু
নির্বাচনের দাবি জানানো হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে উপাচার্য ৩  সদস্য বিশিষ্ট
নির্বাচন কমিশনার গঠন করে ৩০ এপ্রিলের মধ্যে সমস্যা সমাধানের নির্দেশ
দেন। কিন্তু ৩০ এপ্রিলের মধ্যে সমাধান না হওয়ায় ৫ মে পর্যন্ত সময় তারিখ
বর্ধিত করা হয়। কিন্তু সমাধানে না এসেই গতকাল নির্বাচনের কোন বিধি বা
নিয়ম যেমন- বৈধ ভোটার তালিকা প্রকাশ, নির্বাচনী ইস্তেহার ঘোষনা,
মনোনয়নপত্র উত্তোলন, মনোনয়নপত্র জমাদান, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার, প্রার্থী
তালিকা ঘোষণাসহ কোন নিয়ম পালন না করেই একপক্ষিক একটি কমিটি ঘোষণা করেন
নির্বাচন কমিশনারবৃন্দ। ঐ ঘোষিত তালিকাতে স্বাক্ষর রয়েছে বাংলা বিভাগের
সহযোগী অধ্যাপক শামীম রেজা, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক  শিকদার
মো. জুলকারনাইন এবং আইন ও বিচার বিভাগের প্রভাষক ফেরদৌসী রহমান এর।
আপনারা আরোও জানেন যে, বিভিন্ন পত্রিকায় ২০১৫-১৬ কার্যকরী কমিটির সাধারণ
সম্পাদক তানিজদ বসুনিয়ার বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারীতার মাধ্যমে স্বৈরতন্ত্র
প্রতিষ্ঠাসহ নানা অভিযোগ উঠে। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে প্রেসক্লাবের
বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য বরাদ্দকৃত টাকা থেকে অর্থ আত্মস্যাৎ ও ছাত্রলীগ
নেতাদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। নির্বাচনকে নির্বাচনে জেতার
জন্য তানজিদ বসুনিয়া সদস্য নবায়ন ও নতুন সদস্য হওয়ার ন্যূনতম শর্ত পূরণ
করেনি এমন অন্তত ১৫ জনকে অবৈধভাবে সদস্য বানায়। এমন কয়েকজনকে সদস্য
বানানো হয় যারা জীবনের কখনও কোন পত্রিকায় কাজ করেনি। এ নিয়ে জাবি
প্রেসক্লাবের কার্যকরী সদস্য মো. মুসা প্রতিবাদ করেন। পরবর্তীতে কার্যকরী
কমিটি সাধারণ সদস্যদের সম্মতি নিয়ে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক
সিকদার মো. জুলকারনাইন স্যারকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার করা হয়। তখন মুসা
নির্বাচন কমিশনের কাছে ভূয়া সংবাদিকদের বাদ দিয়ে ভোটার তালিকা প্রকাশের
আবেদন জানান। এই পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ২০১৫-১৬ কার্যকরী
কমিটিকে ভোটার তালিকা সংশোধন করতে বলে। কিন্তু তানজিদ বসুনিয়া ও রিজু
মোল্লার সিদ্ধান্তক্রমে ভোটার তালিকা সংশোধন না করে এবং প্রধান নির্বাচন
কমিশনার সিকদার জুলকারনাইন স্যারকে না জানিয়ে ( কোন প্রকার নোটিস ছাড়া) ঐ
দিনই বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রেজাউল ইসলাম (শামীম রেজা) কে নতুন
প্রধান নির্বাচন কমিশনার করা হয়। এদিকে সহযোগী অধ্যাপক শামীম রেজাকেও বলা
হয়নি যে সহযোগী অধ্যাপক সিকদার মো. জুলকারনাইনকে নির্বাচন কমিশনার পদ
থেকে বাতিল করা হয়েছে। এদিকে জাবি প্রেসক্লাবের গঠনতন্ত্রে বলা হয়েছে
নির্বাচনী কোন সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে হলে ৪৮ ঘন্টা আগে ঘোষণা করতে হবে।
গঠনতন্ত্রের এই বিধান এখানেও অমান্য করা হয়।
জাবি প্রেসক্লাবের ২০১৫-১৬ কমিটির সাধারণ সম্পাদক তানজিদ বসুনিয়ার
স্নাতকোত্তর পরীক্ষা আগামী ১০ মে থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকায় ক্ষমতা
কুক্ষিগত করতে তরিঘড়ি করে ২০ এপ্রিল ২০১৭ তারিখে ভোটার তালিকা সংশোধন না
করে (১৫ জন ভূয়া ভোটার নিয়ে) ২১ তারিখ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়।’

0 Comments

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password

Register