ছিটমহলবাসীর জন্য সুখবর

ফারজানা: বাংলাদেশের সাথে একীভূত হওয়া ১১১টি ছিটমহলের প্রায় সাড়ে ৩৭ হাজার মানুষের মধ্যে যারা ভোটার হওয়ার যোগ্য তাদেরকে ভোটার করার উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। যদিও এই ছিটমহলবাসীরা ইতোমধ্যে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পেয়েছেন। দীর্ঘ জটিলতার পর অবশেষে ভোটার হতে যাচ্ছে বিলুপ্ত ছিটমহলবাসী। সম্প্রতি ভোটার করতে নথি অনুমোদন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দুই-একদিনের মধ্যেই এসব এলাকার মাঠ কর্মকর্তাদের প্রস্তুতির নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠানো হচ্ছে বলে ইসির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এছাড়া সম্প্রতি ইসিতে ভোটার করার তাগদা দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বিলুপ্ত ছিটমহলবাসীর ৩৭ হাজার ৫৩৫ জনের নামের তালিকা পাঠানো হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোছাঃ হাজেরা খাতুন স্বাক্ষরিত পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, ১১ এপ্রিল ১১১টি ছিটমহলবাসীর  নামের তালিকাসহ গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে ভোটার এলাকা পুনর্বিন্যাস শেষে নাগরিকত্ব দেয়ার জন্য বিলুপ্ত ছিটমহলবাসীর ৩৭ হাজার ৫৩৫ জনকে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ করা হলো।

ইসির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, বিলুপ্ত ছিটমহলবাসীকে ভোটার করতে সম্প্রতি নথি অনুমোদন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এর আলোকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে দুই-একদিনের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট এলাকার জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের চিঠি পাঠানো হবে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে এসব এলাকার সীমানা পুনর্বিন্যাসের কাজ শেষ করেছে। এর আলোকে ভোটার এলাকা পুনর্বিন্যাসও প্রায় শেষ করেছে কমিশন। ১১১টি ছিটের মধ্যে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার বেহুলাডাঙ্গা ও কুড়িগ্রামের ডাকুরহাট ছিটমহলের ভোটার এলাকা পুনর্বিন্যাস বাকি রয়েছে। শিগগিরই এ কাজ শেষ করতে তাগদা দেয়া হবে।

গেল বছর ৩১ জুলাই বাংলাদেশ-ভারতের ছিটমহল বিনিময় হলেও নাগরিকত্ব পাননি ছিটমহলবাসী। জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় ভোটাধিকার, স্বাস্থ্যসেবা, ভূমি রেজিস্ট্রেশন, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ অন্যান্য মৌলিক সেবা পাচ্ছেন না তারা; পাচ্ছেন না পাসপোর্ট। পারছেন না চাকরির জন্যও আবেদন করতে। শুধু নাগরিকসেবা থেকেই বঞ্চিত নয়, প্রথমবারের মতো বঞ্চিত হয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন থেকেও। অন্যদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে স্থল সীমান্ত চুক্তির পরপরই ভারত সরকার ৫১টি ছিটমহলের ১৫ হাজার বাসিন্দাকে নাগরিকত্ব দিয়েছে।

ছিটমহল বিনিময় সম্পন্ন হওয়ার পর বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ১৭ হাজার ১৬০ দশমিক ৬৩ একর আয়তনের ১১১টি ছিটমহল। গেল বছর ৬ থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত পরিচালিত হেড কাউন্টিং অনুযায়ী সেখানকার জনসংখ্যা ৩৯ হাজার ৫৪৩। এর মধ্যে কুড়িগ্রামে অন্তর্ভুক্ত ১২টি ছিটমহলে জনসংখ্যা ৮ হাজার ৭৫৭। লালমনিরহাটে অন্তর্ভুক্ত ৫৯টি ছিটমহলে জনসংখ্যা ১০ হাজার ৩৭৬। নীলফামারীতে অন্তর্ভুক্ত চারটি ছিটমহলে জনসংখ্যা ৫৪৩ এবং পঞ্চগড়ে অন্তর্ভুক্ত ৩৬টি ছিটমহলে জনসংখ্যা ১৯ হাজার ৮৬৭।

ভোটদানের কাজে ব্যবহার না হলেও বাংলাদেশে ভোটার আইডি কার্ডকে সরকারি দফতরগুলো জাতীয় পরিচয়পত্রের মর্যাদা দেওয়ায় এটি এখন বহুমাত্রিক গুরুত্বপূর্ণ। আর সে কারণে ভোটার আইডি কার্ড না থাকলে নাগরিক হয়েও মানুষকে অনেক বিপত্তি পোহাতে হয়। তাই নাগরিক হওয়ার পরও এই একবছরে ছিটমহলবাসীকে হয়তো অনেক নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে হয়েছে অথবা ধকল পোহাতে হয়েছে। তাই নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগ ছিটমহলবাসীর জন্য সুখবর বলতেই হবে।

তবে যারা ১৯৪৭ সালের দেশ ভাগের পর থেকে ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় পর্যন্ত নিজের দেশের পরিচয় নিয়েই দ্বিধায় থেকেছে কিছুটা সময় গেলেও তাদের জন্য ভোটার আইডি কার্ড পাওয়া এক বিশেষ মর্যাদার ব্যাপারও বটে। তাই কাজটি তাড়াতাড়ি ও জটিলতামুক্তভাবে হোক সেটাই আমরা কামনা করি।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মোঃ আবু হাফিজ বলেন, সরকার ছিটবাসীকে অন্তর্ভুক্ত করে গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে। সীমানা বিন্যাসের কাজও শেষ হয়েছে। শিগগিরই বিলুপ্ত ছিটমহলের বাসিন্দাদের ভোটার করার উদ্যোগ নেয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email
 

0 Comments

Leave a Reply

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password

%d bloggers like this: