চুলপড়া রোধে বাদ দিন এই ১০ অভ্যাস

অত্যন্ত নিম্নমানের জীবযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, চুলে বেশি মাত্রায় স্টাইল করা এসবের কারণে চুলের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারেন। চুলের সমস্যা যদি সবসময় লেগেই থাকে তাহলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। দৈনন্দিন সাধারণ কিছু অভ্যাসই এর জন্য দায়ী।

১. গরম পানি ব্যবহার: গরম পানি দিয়ে ধোয়ার ফলে চুল রুক্ষ্ম ও ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। এমনকি চুলের কালার নষ্ট ও কোঁকড়া হতে পারে। স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুল ধরে রাখতে গোসলের সময় চুলে গরম পানির পরিবর্তে ঠাণ্ডা পানি ব্যবহার করুন।

 

২. রোদে বেশিক্ষণ থাকা : প্রতিদিন বেশিমাত্রায় রোদে থাকার ফলে চুল রুক্ষ্ম হয়। রোদে চুলে ময়েশ্চারাইজারের ঘাটতি হয়। এতে চুল কোঁকড়ানো হয় এবং ভেঙে পড়ে। রোদে যাওয়ার আগে চুলে এসপিআর সানস্ক্রিন স্প্রে করতে পারেন অথবা চুল ঢেকে বাইরে যাবেন।

 

৩. অপর্যাপ্ত ঘুম : ঠিকমতো ঘুম না হলে ত্বক ও চুলের দীর্ঘ সমস্যা দেখা দিতে পারে। চুল পড়া, ভেঙে পড়া এবং চুলের সজীবতা নষ্ট করে ফেলে।  এ কারণে প্রতিদিন কমপক্ষে ৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করতে হবে।

 

৪. হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার : চুল আয়রন করা মোটেও ভালো হয়। গরম পানি, চুলে গরম টুলস ব্যবহারে চুলের আর্দ্রতা নষ্ট করে ক্ষতির কারণ হতে পারে। যত সম্ভব চুলে গরম টুলস কম ব্যবহার করা উচিত। কম গরম অথবা ঠাণ্ডা হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করতে হবে।

 

৫. চুল আঁটোসাঁটো করে বাঁধা : পনি টেইল, বিনুনি করা এবং চুল আঁটো করে বাঁধা বর্তমানে ফ্যাশনপ্রিয়দের ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে। নিয়মিত এভাবে চুল বাঁধা ঠিক নয়। এতে চুল দুর্বল হয়ে পড়ে, চুল ভেঙে পড়ে। এর থেকে পরিত্রাণ পেতে চুলের স্টাইলে বিরতি দিয়ে স্বাভাবিক খোলা রাখতে হবে।

 

৬. মানসিক চাপ : মানসিক চাপ নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য চুল পড়ার বড় কারণ। দুশ্চিন্তা করা থেকে বিরত থাকুন। প্রয়োজনে চাপের মাত্রা কমাতে ইয়োগা, মেডিটেশন এবং হালকা ব্যায়াম অনুশীলন করতে পারেন।

 

৭. হেয়ার প্রোডাক্ট : চুলের ধরন বুঝে হেয়ার প্রোডাক্ট বেছে নিতে হবে। অনেক সময় অনুপযোগী প্রোডাক্ট চুলের বিভিন্ন সমস্যা বাড়িয়ে দেয়।  এতে চুল পড়া থেকে শুরু করে রুক্ষ্ম, মাথার ত্বকে ঘা এবং খুশকি দেখা দিতে পারে।

 

৮. ঘন ঘন স্টাইলিং প্রোডাক্ট ব্যবহার : আমরা কমবেশি সবাই চুলের স্টাইল করতে ভালোবাসি। চুল আচঁড়ানো, টিজিং করা এসবের বিষয়ে আমরা মোটেও সচেতন নই। এর ফলে চুল দুর্বল হয়ে পড়ে এবং জট বেঁধে যায়। অতিরিক্ত মাত্রায় চুলে কেমিক্যাল স্প্রে, জেল এবং ক্রিম ব্যবহারের ফলে চুলের অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে।

 

৯. কেমিক্যালযুক্ত পণ্য ব্যবহার : অ্যালকোহল, কৃত্রিম সুবাস, অ্যামোনিয়া ও সালফেটযুক্ত হেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহারে চুলের মারাত্মকভাবে ক্ষতি হতে পারে। চুলে কালার করা কমাতে হবে। যত সম্ভব চুলে প্রোডাক্ট কম ব্যবহার করাই ভালো।

 

১০. পর্যাপ্ত পানি পান না করা : সঠিকভাবে বেড়ে উঠা এবং সজীবতা ধরে রাখার জন্য চুলের প্রয়োজন পর্যাপ্ত জলয়োজন। প্রতিদিন ৮ গ্লাস পান পান করুন এবং প্রাকৃতিকভাবে চুলে পুষ্টি জোগান।

সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া।

মতামত দিন

0 Comments

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password

Register