চট্টগ্রামে ১ বছরে ৫৯৮ টি অগ্নিকাণ্ড

চট্টগ্রাম নগরীতে কোথাও না কোথাও আগুন লাগার ঘটনা ঘটছে প্রতিদিনই। গেল বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত চট্টগ্রাম নগরে ৫৯৮ টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, এক বছর যত অগ্নিকাণ্ডর ঘটনা ঘটেছে এর পেছনে প্রধানত তিনটি কারণ রয়েছে। বৈদ্যুতিক গোলযোগ, চুলার আগুন ও জ্বলন্ত সিগারেটের টুকরা। ৫৯৮টি অগ্নিকাণ্ডের মধ্যে প্রায় ৩৫০টির ঘটনার পেছনে এই তিন কারণই দায়ী। এর মধ্যে ২শ’ অগ্নিকাণ্ডের পেছনে দায়ী বৈদ্যুতিক গোলযোগ।

এ ছাড়া গাড়ি বা কলকারখানার ইঞ্জিনের ঘর্ষণ, খোলা বাতি, অতিরিক্ত তাপ ইত্যাদি কারণেও আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। ২০১৫ সালে অগ্নিকাণ্ডে ঘটনা ছিল ৫১২টি। এর আগের বছর ছিলো ৫০৩টি। তার মানে আগুনের ঘটনা দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে। বাড়ছে হতাহতের ঘটনাও। এতে উদ্বিগ্ন চট্টগ্রামবাসী।

ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সদর দপ্তরের পরিদর্শক মো. মামুন উর রশিদ সাংবাদিকদের জানান, গেলো বছরে অগ্নিদুর্ঘটনায় চট্টগ্রাম নগরে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৬ জন। তাদের মধ্যে ঘটনাস্থলেই ২ জন মারা যান। আহত হন কমপক্ষে ১৫।

গেলো বছরের ১৮ ডিসেম্বর নগরীর বাকলিয়া থানার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের শাহজী পাড়ায় ভোরে আগুনে পুড়ে মো. সৈয়দ আহমদ (৩৫) ও রীণা আক্তার (২৮) নামে এক দম্পতির মৃত্যু হয়। এ ছাড়া ২৮ জুন নগরের জিওসি মোড় এলাকায় চট্টগ্রাম সেন্ট্রাল প্লাজা মার্কেটে আগুনের ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে মো. হাসান মারা গেছেন।

গেলো দু’দিন আগে নগরীর পূর্ব বাকলিয়া, পাহাড়তলী ও ডবলমুরিংয়ে আলাদা আগুন লাগার ঘটনায় ৩৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ৩ কোটি টাকার মালামাল। গতকাল (বুধবার) চান্দগাঁও থানার মোহরা এলাকায় কাদের মার্কেটে আগুন লেগে তিনটি দোকান পুড়ে গেছে।

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) স্থাপত্য বিভাগের সহকারি অধ্যাপক মোহাম্মদ মোস্তাফিজ আল মামুন বলেন, চুলার আগুন থেকে কিংবা বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে বস্তিতে বেশি আগুন লাগে। সাধারণত দেখা যায়, বস্তিতে যেসব চুলা ব্যবহার করা হয় সেগুলো খোলা চুলা।

এসব চুলায় গ্যাসের বদলে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয় শুকনো কাঠ ও তুস। যার কারণে বাতাসের সঙ্গে আগুনের ছাই মিশে উড়ে গিয়ে কাপড়ে লাগে।বস্তিতে ছোট জায়গায় তারা শুকনো কাঠ, বাঁশ ও ছন দিয়ে বেড়া তৈরি করেন। পরে বেড়ার ওপরে প্লাস্টিক ও টিন দিয়ে ঘর করে থাকে।

এ ছাড়া বিভিন্ন বস্তির মালিকেরা বৈধ-অবৈধ সংযোগ নেয়ার সময় প্রায়ই নিম্নমানের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার করেন। সাধারণত বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট হবার অন্যতম কারণ হচ্ছে আমাদের দেশের বিদ্যুতের তার। এসবের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন আছে। তারপর বৈদ্যুতিক তারের যে ধারণ ক্ষমতা তার চেয়ে বেশী বিদ্যুৎ আমরা ব্যবহার করে থাকি। মজার বিষয় হলো কোন কারণে তার ছিঁড়ে গেলে সেটা কিছু দিয়ে জোড়াতালি দিয়ে লাগিয়ে থাকি।

এছাড়া শিল্প কারখানাগুলোতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা কম এবং শ্রমিকদের অসচেতনার অভাবে আরো বেশী আগুন লাগার ঘটনা চোখে পড়ে বলে জানান এ সহকারি অধ্যাপক মোহাম্মদ মোস্তাফিজ আল মামুন।

চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারি পরিচালক মো. ইয়াহিয়া এ বিষয়ে বলেন, লোকজনের অসতর্কতা, ছোট ছেলে-মেয়েদের আগুন নিয়ে খেলা ও বিড়ি সিগারেটের অবশিষ্টাংশের মাধ্যমে আগুন লাগার ঘটনা বেশি বেশি ঘটে। আর বহুতল ভবনে আগুন লাগার অন্যতম প্রধান কারণ বৈদ্যুতিক গোলযোগ।

এ দিকে বহুতল ভবনগুলোতে বিদ্যুতের অনুমোদিত লোডের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হয়। দ্রুত সময়ে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পৌঁছানো গেলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমানো যায়। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে সরু রাস্তার কারণে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সময় লাগে। অনেক সময় আগুন নেভানোর জন্য আশপাশে পানির উৎসও পাওয়া যায় না। তা ছাড়া বিল্ডিং কোড মেনে যদি বহুতল ভবনগুলো তৈরি হতো, তাহলে এ সমস্যা হতো না।

Print Friendly, PDF & Email
 

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password

%d bloggers like this: