খানসামায় ২ বছর পর স্ত্রী হত্যা ফাঁস হত্যার জবানবন্দি দিল ১০জন স¦াক্ষী

এস.কে.এম.তারিকুল ইসলাম চৌধুরী,খানসামা,( দিনাজপুর )প্রতিনিধি : খানসামায় দু বছর পর স্ত্রী হত্যা কান্ড ফাঁস হয়েছে। এই হত্যাকান্ডকে তৎকালিন সময়ে স্বাভাবিক মৃত্যু বলে চালিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিল দীর্ঘ দু’বছর পরে এলাকার সাধারন মানুষ। ঘটনাটি ঘটেছিল গত দু’বছর আগে দিনাজপুর খানসামা উপজেলার ৪নং খামারপাড়া ইউপি’র ভান্ডার দহ গ্রামে। ২বছর পর মামলার স্বাক্ষীদের জবানবন্ধিতে চাপা থাকা সত্য আদালতে প্রমাণ হতে চলেছে। কথায় বলে সত্য কখনও চাপা থাকে না।
মামলার এজাহারের ভিত্তিতে জানা যায়, ৮০ হাজার টাকা যৌতুক নিয়ে অত্র উপজেলার ভান্ডার দহ গ্রামে প্রকাশ চন্দ্র রায়ের পুত্র কমল চন্দ্র (২৫) এর সাথে একই উপজেলার ভেড়ভেড়ী গ্রামের দ্বীনেশ চন্দ্র রায়ের কন্যা শ্রীমতী ফুলবাসী রায়(২০) এর বিবাহ সম্পন্ন হয়। তারিখটি হলো গত ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৫ ইং বিয়ের এক মাস অতিবাহিত হতে না হতেই কমল আবারো একটি মোটরসাইকেল যৌতুক হিসেবে কিনে দেওয়ার জন্য ফুলবাসীর উপর চাপ দিতে থাকে। ফুলবাসীর পিতা একজন হতদরিদ্র দিনমুজুর ও নির্ক্ষর মানুষ। বিধায় মোটরসাইকেল কিনে দেওয়ার সমর্থ নেই বলে ফুলবাসী তার স্বামীকে জানায়। পরে তার উপর চাপ প্রয়োগ করে ও শারীরিক মানসিক নির্যাতন করতে থাকে। এভাবে ৯মাস পাড় হয়ে যায়। এরই মধ্যে ফুলবাসি ৪মাসের অন্তঃ সত্তা হন। গত ১৫ জুলাই ২০১৫ তারিখ রাতে অন্তঃ সত্তা ফুলবাসীকে হত্যা করে। ফাঁসিতে আত্মহত্যা করেছে বলে কমলের পরিবারের সকলে এলাকার লোকদের জানায়।

পুলিশ ও চেয়ারম্যান এর অগচরে লাশটি মাটিতে দাফন করে। লাশের ধর্মীয় ক্রিয়া কর্ম সম্পন্ন করে ফেলে। পরে বাড়ীর লোকজন সবাই বাড়ী থেকে অনত্র অবস্থান নেয়। তৎকালিন খানসামা থানার ওসি কৃষ্ণ সরকার ফুলবাসীর পিতাকে আটকে রেখে জোর পূর্বক সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে তাতে স্বাভাবিক মৃত্যুর বয়ান লিখে আদালতে প্রেরন করেন। এই হত্যাকান্ডটিকে স্বাভাবিক মৃত্যুর ছিল দেখিয়ে সরজমিন রিপোর্ট দিয়ে দেয়। এমতাবস্থায় কন্যা হত্যার বিচার না পেয়ে এবার ফুলবাসীর মাতা শ্রীমতি পবিত্রা রানী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে মামলাটি রুজু করেন।

ফুলবাসি (২০) স্বাভাবিক মৃত্যু ছিল না বরং স্বামী কমলচন্দ(২৫)্র ও তার পিতা মাতা সহ ৮জন মিলে ফুলবাসিকে হত্যা করেন। কিন্তু হত্যাকে স্বাভাবিক মৃত্যু দেখানো হয়েছিল। ২ বছর পর হত্যাকান্ড চাপা দেয়ার চেষ্টা একেবারে ভন্ডুল হলো। দু’ বছর পর এলাকার ১০জন সাধারণ মানুষ এই হত্যাকান্ড এর স্বপক্ষে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট জবানবন্দি প্রদান করেন।

যার মামলা নং ১২৮/২০১৬। গত ৫ মে এবং ২১ মে ২০১৭ তারিখে সি আর ই এস আদালতের বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেড ১০ জন স্বাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহন করেন। কমল চন্দ্র রায় একজন অর্থ শালি ও কস্মেটিক ব্যবসায়ী। উপজেলা পাকের হাটে তার একটি কসমেটিকের দোকান আছে। অত্র এলাকায় সরজমিনে গেলে ফুলবাসী হত্যাকান্ড থেকে বাঁচার জন্য সে বহু টাকা ব্যায় করেছে বলে এলাকার অনেকে জানান।

Print Friendly

0 Comments

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password

Register

%d bloggers like this: