খানসামার আওকরা মসজিদ সরকারের সুনজর সংস্কারের অভাবে ধ্বংসের পথে

খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : দিনাজপুর জেলার খানসামা উপজেলায় অনেক পোড়া মাটির সুনিপুণ নকশা করা বহু পুরাতন মুসলিম ও হিন্দু স্থাপত্য নিদর্শন আছে। তার মধ্যে আওকরা মসজিদ অন্যতম। যা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় অযতেœ পড়ে আছে। খানসামা উপজেলার ৩নং আঙ্গারপাড়া ও ৬নং গোয়ালডিহি ইউনিয়নের সীমানাবর্তী মির্জার মাঠে অবস্থিত পুরাতন মুসলিম স্থাপত্য আওকরা মসজিদ। উপজেলা পরিসংখ্যানের তথ্যে পাওয়া গেছে,ওই মসজিদটি প্রায় আড়াইশ বছর পূর্বে বাংলা ১১৭২ সালে নির্মিত হয়। চিকন ইটে নির্মিত পোড়া মাটির দেয়ালে নকশা করা মসজিদটি উপজেলার মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া বেলান নদীর পূর্ব ধারে মির্জার মাঠ নামক স্থানে অবস্থিত। এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিরা ধারণা করেন এক সময় মসজিদটির আশপাশে মুসলিম জনবসতি ছিল। যে কারণে ঐ সময় ঐতিহাসিক মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল এবং ব্রিটিশ সরকারের আমলে অথবা অন্য কোন কারণে তারা মসজিদটির আশপাশ এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যায়। এই মসজিদটি বিষয়ে ধারণা করা হয় পারস্য দেশ থেকে আসা মুসলিম বহর যাদের ভাষা ছিল ফার্সি তারা ইসলাম ধর্ম প্রচার করার জন্য বেলান নদী যোগে এসেছিল। ফার্সি ভাষার প্রমাণ মেলে মসজিদটির দুইটি কোষ্টি পাথরে যা ফার্সি ভাষায় খোদাই করা আছে। এই মসজিদটি মির্জা লাল বেগ নামক মুসলিম সম্প্রদায়ের নামাজ আদায়ের লক্ষ্যে নির্মাণ করেন। মির্জা সাহেব মসজিদটি প্রতিষ্ঠার সময় কি নাম রেখেছেন তাও কেউ বলতে পারে না। মসজিদটির পাশ দিয়ে বয়ে চলা রাস্তায় পথিক যাওয়ার সময় এটির মধ্যবর্তী অংশে দূর থেকে দাঁড়িয়ে কথা বললে এক সময় জোরে প্রতিধ্বনির সৃষ্টি হত। তাই শুনে পথিক ভাবত মসজিদটি তাদের সাথে আও করছে বা কথার উত্তর দিচ্ছে। আর এভাবেই মসজিদটি আওকরা বা কথা বলা মসজিদ নামে পরিচিত হয়। এখনও মসজিদটির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় জোরে শব্দ করে কথা বললে প্রতিধ্বনি শোনা যায় যেন মনে হয় মসজিদটি কথার উত্তর দিচ্ছে। কিন্তু মসজিদের দেয়াল ফেটে গিয়ে নষ্ট হওয়ায় এবং এর গায়ে জঙ্গলি আগাছা জন্ম নেয়ায় আগের মত আর আওয়াজ হয় না। এই পুরাতন মুসলিম স্থাপনার দুইকোনে দুই নিদর্শন কোষ্টি পাথর ছিল যা আকারে দুই শিলপাট্টার সমান। আওকরা মসজিদের নিদর্শন কোষ্টি পাথর যা ফার্সি ভাষায় কবিতা আকারে রচিত দিনাজপুর মিউজিয়ামে ও ঢাকা মিউজিয়ামে বর্তমানে সুরক্ষিত রাখা আছে। বর্তমানে সংস্কারের অভাবে ধীরে ধীরে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে মসজিদটি। মির্জা লাল বেগের ওই মসজিদকে ঘিরে মির্জার মাঠে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলার একমাত্র পুরাকীর্তি ও স্থাপত্য ঐতিহাসিক আওকরা মসজিদটির প্রতি সরকারি-বেসরকারি কোন প্রতিষ্ঠান কিংবা ধর্মভীরু মুসলিম বিত্তশালীরা কেউই এটির প্রতি দৃষ্টিপাত করছেন না। ফলে মসজিদটির যে অংশটুকু এখনও অবশিষ্ট রয়েছে তাও ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। তাই এলাকাবাসী ও খানসামার ঐতিহ্যপ্রেমীগণের দাবি সরকারি পদক্ষেপ নিয়ে মসজিদটির সংস্কার করা হলে এটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিণত হবে এবং মসজিদটি দেশের অন্যতম দর্শনীয় পোড়া মাটির মুসলিম স্থাপত্য ও দর্শনীয় স্থানে পরিণত হতে পারে বলে ধারণা করেন।

0 Comments

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password

Register