breaking news New

কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে ঐক্যফ্রন্ট রাতেই ৩০-৬০ শতাংশ ব্যালট বাক্স ভর্তি করা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
গত ৩০ ডিসেম্বর ভোটের আগের রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার সহায়তায় শতকরা ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ ব্যালটে সিল মেরে বাক্স ভর্তি করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। আজ রোববার বিকেলে শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঢাকায় নিযুক্ত কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা এই অভিযোগ করেছেন।

গুলশানে হোটেল আমারিতে বিকেল ৪টা থেকে দেড় ঘণ্টা কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ডেভিড আর্ল মিলারসহ যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতসহ ৩০টি বেশি দেশের কুটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া রাশিয়া, চীন, কোরিয়া, ফ্রান্স, সুইডেন, স্পেন, জার্মানি, নরওয়ে, ভারত, পাকিস্তান, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, সুইজারল্যান্ড, তুরস্ক, নেদারল্যান্ড, ডেনমার্ক, নেপাল, ভুটান, শ্রীলংকার কূটনীতিকরাও ছিলেন বলে জানিয়েছেন ফ্রন্টের নেতারা।

বৈঠকে ড. কামাল হোসেন একাদশ নির্বাচনের ভোট পরিস্থিতি ও নির্বাচনের আগে ও পরের ঘটনাবলী তুলে ধরে কুটনীতিকদের ব্রিফিং করেন। পরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও সারা দেশে নির্বাচনী সহিংসতা নিয়ে কথা বলেন। বৈঠকে নির্বাচনে ভোটের নানা অনিয়মের একটি ভিডিও পাওয়া পয়েন্টও উপস্থাপন করা হয়।

বৈঠকে আরও অংশ নেন বিএনপির আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আবদুল আউয়াল মিন্টু, সাবিহ উদ্দিন আহমেদ, আসাদুজ্জামান রিপন, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, ফাহিমা নাসরিন মুন্নী, তাবিথ আউয়াল, জেএসপির আসম আবদুর রব, গণফোরামের মোস্তফা মহসিন মন্টু, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, গণস্বাস্থ্যের ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী অংশ নেন। বৈঠকে কূটনীতিকদের তথ্য প্রমাণাদিসহ কাগজপত্র সরবারহ করা হয়।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, ঐক্যফ্রন্ট নেতারা আরও বলেছেন, ভোটের দিন সকাল থেকে ভোটকেন্দ্র ও কেন্দ্রের আশপাশের মোড়ে মোড়ে সরকারি লাঠিয়াল বাহিনী মহড়া দেয় এবং ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও তফসিল ঘোষণার পর গায়েবি মামলাসহ নানা কারণে ১৬ প্রার্থীসহ নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার, প্রচারে বাধা দেওয়া ও ৫১ প্রার্থীসহ ঐক্যফ্রন্টের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর মনোনয়ন দেওয়ার পরও আদালত ১৮ জনের প্রার্থিতা বাতিল করাসহ নির্বাচনের সময়কার পুরো পরিস্থিতি তুলে ধরেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতারা।

ঐক্যফ্রন্ট নেতারা কূটনীতিকদের বলেছেন, ভোটের পরেও সারা দেশে বিরোধী নেতাকর্মীদের বাড়ি-ঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা করা হচ্ছে। এ সময় নোয়াখালীর সুবর্নচরে ভোটের রাতে চার সন্তানের গৃহবধুকে স্বামীকে বেধে রেখে ধর্ষণের কথা তুলে ধরেন নেতারা। বৈঠকে, প্রচার চলাকালে ঢাকা-৩ আসনের প্রার্থী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ঢাকা-৬ গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী, ঢাকা-৯ আসনের আফরোজা আব্বাস, পটুয়াখালী-৩ আসনের গোলাম মাওলা রনি, সিরাজগঞ্জ-১ রুমানা মোর্শেদ কনক চাঁপা, ঝালকাঠি-১ আসনের জেবা খান তাদের ওপর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের হামলার চিত্র তুলে ধরেন।

বৈঠক শেষে জানতে চাইলে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘ভালো আলোচনা হয়েছে। ভোটের দিন যা ঘটল সেটা আমরা তুলে ধরেছি। তারাও (কূটনীতিকরা) স্বচক্ষে দেখেছেন। অর্থাৎ এটা নিয়ে কোনো বির্তক হয়নি। ওনারা শুনলেন আমরা কি বললাম। আমি বলেছি, তোমরা সরকারকে বুঝাও, এর সমাধান করতে হলে আরেকটা ভালো নির্বাচন দিতে হবে।’

ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘তারা বলেছে, তোমরা কী চাও? আমরা বলি যে, এই নির্বাচন যেহেতু হয়নি। আরেকটা ভালো নির্বাচন সরকার দিলে শান্তিপূর্ণভাবে সবাই ভোট দিতে পারে- এটা হলে শান্তিপূর্ণ সমাধান হবে। দেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ আমরা সবাই মিলে গড়ব।’

কূটনীতিকরা আপনাদের কথা শুনে কী বললেন প্রশ্ন করা হলে ড. কামাল বলেন, ‘এখন আমাদের কথা হলো যে, ঠিক আছে যা হয়েছে হয়েছে। এখন একটা ভালো নির্বাচন দেওয়া হোক। আমরা বলেছি সবাই গঠনমূলক একটা ভূমিকা রাখতে পারে। আমরা কারো বিপক্ষে নই। সরকারকে আমরা বলব যে, আমরা মনে করি, সকলের শুভাকাঙ্ক্ষি হিসেবে দেশে শান্তিপূর্ণভাবে আরেকটা নির্বাচন হলে তার যা ফলাফল হয় তার ভিত্তিতে একটা গণতান্ত্রিক সরকার হবে। সেই সরকারই মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারে।’

মতামত দিন

0 Comments

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password

Register