কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে রাজাকারের নামে স্থাপনা থাকার সমর্থন করায় উপজেলা ও পৌর কমান্ডারের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

কুমারখালী প্রতিনিধি: ১৯মার্চ ২০১৭ কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালীতে রাজাকারের নামে স্থাপনা থাকার সমর্থন করায় উপজেলা ও পৌর কমান্ডারের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ সমিতি কুমারখালী। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কুমারখালী মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ সমিতি ও ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি’র সভাপতি এটিএম আবুল মনসুর মজনু।
সম্মানিত গণ মাধ্যম কর্মীবৃন্দ
আপনাদের জানাই মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের রক্তিম অভিন্দন ও শুভেচ্ছা। মুক্তি যুদ্ধ বাঙ্গালী জাতির অহংকার শ্রেষ্ঠ অর্জন। মুক্তিযোদ্ধা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। স্থাপনা/ প্রতিষ্ঠানে যুদ্ধপরাধী রাজাকার ও স্বাধীনতা বিরোধী কুখ্যাত ব্যক্তির নামে নাম করণ প্রসঙ্গে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষামন্ত্রণালয় স্বারক সম্বলিত আদেশে শিক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমে দেশের সকল জেলা/উপজেলা শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে উল্লেখিত বিষয়ে যাচাই বাছাইয়ে দায়িত্ব অর্পণ করে। বিধায় কুমারখালী উপজেলাতেও যাচাইবাছাই অন্তে অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কুমারখালী পৌর কমান্ড স্বরক কুমা/পৌ/মু/ক ২২/০৩/২০১৭ ও উপজেলা কমান্ড স্বারক নম্বর বা/মু/সংসদ/কুমার/কুষ-৪/১৭ তারিখ ২২/০২/২০১৭ ইং তারিখে একপত্র মারফতে দোষী সাব্যস্ত হাজী মন্তাজ আলী প্রামানিক একজন যুদ্ধাপরাধী নয় এই মর্মে যে, প্রত্যয়ন পত্র প্রদান করেছেন তা দেশ জাতি তথা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের জন্য এক কলঙ্ক জনক অধ্যায়। যখন যুদ্ধাপরাধীর সম্পদ সরকার বাজেয়াপ্তের ব্যস্থা নিতে যাচ্ছে যা বিভিন্ন গণ মাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে। সে সময় একজন কৃখ্যাত রাজাকার যুদ্ধাপরাধী অথচ তাকে নির্দোষ ব্যক্তি বলে অভিহীত করে প্রত্যয়ন পত্র প্রদান করলেন। তার বিরুদ্ধে আমাদের এই সংবাদ সম্মেলন।
আমরা লিখিত ও প্রমাণ নথিপত্রের মাধ্যমে জানাচ্ছি যে, উক্ত ব্যক্তি একজন যুদ্ধাপরাধী এই কারণে কুমারখালী মুক্তি যুদ্ধের স্বপক্ষের সকল শ্রেণি পেশার মানুষ মর্মাহত। সেই সাথে ১৯৭১ সালে উক্ত ব্যক্তি কর্তৃক সংঘটিত জনগণের সম্পদ লুটপাট, বাড়ীঘরে অগ্নি সংযোগ এবং মানুষ হত্যার কথা উপস্থাপন করছি।
তখনকার সময় কুমারখালী বাজারের সবচেয়ে বড় পাইকারী দোকান ছিল কালিপদ দত্ত, কালা দত্ত, জগবন্ধু এবং দুলাল বৈরাগীর দোকান সহ বহু সংখ্যক দোকান এবং স্বর্ণকার পট্টি লুটে নেতৃত্ব দেয় উক্ত মন্তাজ আলী। তার অনেক স্বাক্ষী এখনও জীবিত আছে। কুমারখালী শহর এবং আশপাশের বহুগ্রামের ঘরবাড়ী অগ্নি সংযোগে নেতৃত্ব দেয় উক্ত ব্যক্তি।
কুমারখালী বিশিষ্ট কাঙালী পরিবারে সদস্য সহ ১৫/১৬ জন মানুষ হত্যায় নেতৃত্ব দেয় উক্ত মন্তাজ আলী।
পাবনার সুজানগর থানার সাতবাড়ীয়া তেকে আগত প্রায় ২,০০০ স্বরনার্থী যারা ভারত যাচ্ছিল সকাল ১০ঘটিকাার সময় তাদের কুমারখালী ঘাটে লুটপাটের নেতৃত্ব দেয় উক্ত মন্তাজ আলীঅ।
২০১০ সালে ৭১ এর ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি কর্তৃক প্রকাশিত ৩১৫ জন রাজাকারের তালিকা প্রকাশিত হয়। যেখানে উক্ত মন্তাজ আলীর নাম রয়েছে ৩ নম্বরে। যা বিশিষ্ট লেখক এবং সাংবাদিক ৭১ এর ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি কার্যকারী সভাপতি জনাব শাহরিয়ার কবির উক্ত নামের তালিকা প্রকাশ উদ্ভোধন করেন কুমারখালীতে।
সর্বপরি আমরা কুমারখালী মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের উপরিউক্ত কর্তা ব্যক্তিদ্বয় জনাব মোকাদ্দেস হোসেন এবং শামসুল আলম পিন্টুর এহেন গর্হিত কর্মকান্ডের তীব্র প্রতিবাদ, ক্ষোভ ও ঘৃণা প্রকাশ করছি। প্রিয় সাংবাদিক বন্ধু গণ আমরা আপনাদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। উপরিউক্ত ব্যক্তিদ্বয়ের বিরুদ্ধে শাস্তি মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং উক্ত মন্তাজ আলীর নাম স্বাধীন বাংলাদেশের শিক্সা প্রতিষ্ঠান তেকে প্রত্যাহার করে দিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে-দেশ জাতির অদন্ত প্রহরী হিসেবে আমাদের দায় মুক্ত করার আহ্বান রাখছি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নাগরিক পরিষদ’র সভাপতি আকরাম হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবেক উপজেলা কমান্ডার নুরুল ইসলাম নুরু, সোলাইমান জোয়াদ্দার, চাঁদ আলী, মুক্তার হোসেন, রিয়াজদ্দিন, আব্দুর মতিন মাস্টার, রেজাউর করিম হান্নান, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান পরিবারের ব্যারিষ্টার সেলিম আলতাফ জর্জ, কাউন্সিলন মাহবুব আলম বাবু, ফরিদ আহমেদ খান, আওয়ামীলীগ নেতা সুভাষ দত্ত, উপজেলা জাসদ সভাপতি রাজিবুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক প্রমুখ।

0 Comments

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password

Register