breaking news New

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে খৃষ্টধর্মালম্বীদের শুভ বড়দিন উদযাপিত

কুমারখালী প্রতিনিধি: কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার বাটিকামারা মধ্যপাড়ায় ফেইড বাইবেল চার্চ এ খ্রীষ্টধর্মালম্বীদের শুভ বড়দিন যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হয়। ২৫ শে ডিসেম্বর ছিল যীশু খ্রীষ্টের জন্ম দিন। খ্রীষ্টান সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো উপজেলার বাটিকামারা মধ্যপাড়ায় ফেইথ বাইবেল চার্চ এ বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত বড় দিনের অনুষ্ঠান উপলক্ষে আলোচনা ও অনুষ্ঠান শেষে কেক কেটে যীশু খ্রীষ্ট্রের শুভ জন্মদিন পালন করা হয়। চার্চের পালক ডেভিড ফজলু, ফারুক, মাইকেল, জেমস মান্নান ও রেভা: জেড এ শুভ ধর্মীয় আলোচনা করেন।এ সময় আরো উপস্থিত ছিলে সাংবাদিক নেতা কে এম আর শাহীন, প্রেসক্লাব এর সভাপতি বাবলু জোয়ার্দ্দার, সাংবাদিক রনি রেজওয়ান প্রমুখ সহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন কুমারখালী থানা পুলিশ।
পবিত্র বাইবেল’র লুক ২:১-১২ অনুচ্ছেদে সরল ও সুন্দর ভাষায় আমাদের কাছে যীশুর জন্মের সুখবর প্রকাশ করে। যীশুর জন্ম মানুষের ইতিহাসে শ্রেষ্ঠতম ঘটনা। যীশুর জন্মের চিহ্নস্বরূপ পুরাতন বছরের পঞ্জিকা বাতিল করা হয় এবং মানুষের ইতিহাসে নব-বর্ষের সূচনা হয়, যা আজ পর্যন্ত সকল জাতি অনুসরণ করে আসছে। সুতরাং যীশুর জন্ম, ইতিহাসকে দুই যুগে ভাগ করে খ্রীষ্টের আগে ‘খ্রীষ্ট পূর্ব’ এবং খ্রীষ্টের পরে ‘খ্রীষ্টাব্দ’। এ দ্বারা প্রকাশিত হয় যে, যীশুর আগমন হলো মানুষের ইতিহাসের কেন্দ্র ও উৎস। তবুও যীশুর জন্ম হয় অতি নীরবতা ও ন¤্রতার মধ্যেÑ ছোট একটি গ্রামের অজ্ঞাত গোয়াল ঘরে। তখনকার বড় লোকেরা যীশুর জন্মের কথা জানতেও পারেনি এবং টেরও পায়নি। যীশু মানুষের ইতিহাসের প্রভু হয়ে জন্ম নিলেও তিনি আসেন গরীব ও ন¤্রচিত্ত লোকদের একজন হতে, কারণ তিনি তাদেরই কাছে তাঁর মুক্তির সুখবর বহন করবেন। যীশু সমস্ত মানুষের উত্তম পালক হবার জন্য জন্ম নিলেন। এই সত্যকে তিনি এই ভাবে প্রকাশ করেন: ক) মেষ পালক দাউদের জন্মস্থানে যীশুর জন্ম হয় (দ্রঃ লুক ২:৬)। খ) রাখালদের ঘরে যীশুর জন্ম নেন (দ্রঃ লুক ২:৭)। গ) যীশুর জন্মের প্রথম সংবাদ রাখালদের কাছে ঘোষিত হয় (দ্রঃ লুক ২:৮)। ঘ) যীশুকে একজন রাখালের সন্তানের মত রাখা হয় এবং এই চিহ্নে তিনি সকলের কাছে পরিচিত হন (দ্রঃ লুক ২:১২)। সর্বযুগের মানুষ এই প্রথম রাখালদের মত যীশুকে তাদের পালক হিসাবে চিনতে পারে এবং স্বীকার করে সানন্দে তাঁকে গ্রহণ করে। জাখারিয়ার কাছে দূত সংবাদের আরম্ভে যেমন তৎকালীন ঐতিহাসিক ঘটনা উল্লেখ পাওয়া যায়, তেমনি এখানে যীশুর জন্মের বিবরণের আরম্ভেও ঐতিহাসিক পরিস্থিতির বর্ণনা পাওয়া যায় (দ্রঃ লুক ২:১)। এখানে আমরা লক্ষ্য করি একটি বিশেষ পদ্ধতি। তখনকার ঐতিহাসিক ঘটনাবলী থেকে দেখা যায় যে, মুক্তির ইতিহাস মানুষের জাগতিক ইতিহাসের সাথে জড়িত রয়েছে। বস্ততঃ ইতিহাস দু’টি নয় এবং একটি এবং তা সম্পূর্ণ ঈশ্বরের হাতে। ঈশ্বর মানুষের ইতিহাসের প্রভু হয়ে অদৃশ্যভাবে এই ইতিহাসকে দিনের পর দিন পূর্ণতার দিকে পরিচালনা করেন। অনেকে বিশ্বাসী নয় বলে জাগতিক ইতিহাসে ঈশ্বরের উপস্থিতি ও পরিচালনা দেখতে পায় না। তারা জাগতিক ইতিহাসে কেবল মানুষের কাজই দেখতে পায়। আসলে কিন্তু তা নয়। মানুষের বাস্তব ইতিহাসের মাধ্যমে ঈশ্বর তাঁর মুক্তির কাজ পূর্ণ করেন। এই জন্য জাগতিক ইতিহাস ঈশ্বরের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ। এখানেই রয়েছে সুখ, দুঃখ, উত্থান ও পতন নিয়ে মানুষের জীবন।এই বিশ্বাসের দৃষ্টি লাভ করে আমরাও যেন আমাদের দৈনিক বাস্তব জীবনে ঈশ্বরের উপস্থিতি ও পরিচালনা দেখতে পাই। স¤্রাট অগাস্টাস নিজেকে মনে করতেন, তখনকার পরিচিত পৃথিবীর কর্তা ও সব মানুষের প্রভু (দ্রঃ লুক ২:২)। কিন্তু লুক এখানে প্রমান করতে চান যে, সমস্ত পৃথিবী ও মানুষের একমাত্র প্রভু হলেন সেই শিশু, যিনি স¤্রাটের অগোচরে জন্ম নিতে যাচ্ছেন। তখন স¤্রাটকে মানুষের প্রভু ও মুক্তিদাতা বলা হত। এর কারণ তিনি তার দক্ষ সৈনিক দ্বারা সমস্ত দেশ জয় করেন এবং কঠিন শৃঙ্খলার মাধ্যমে দেশের সর্বত্র এক শান্তিপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি করেন, যা অনেকদিন যাবৎ দেশবাসী উপভোগ করেনি। কিন্তু এই বাহ্যিক শৃঙ্খলার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল কেবল অস্ত্রের বলে। সুতরাং কখনও মানুষ প্রকৃত শান্তি ও মুক্তির অপেক্ষায় ছিল। যীশু মানুষের এই প্রতীক্ষিত আশা পূর্ণ করতে জন্ম নিলেন। তাঁর মুক্তির সুসমাচার সত্যিই সার্বজনীন এবং ফলপ্রসূ।
আলোচনা শেষে দেশ ও দশের মঙ্গল কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা শেষে মহা মানব যীশু খৃষ্টের জন্ম দিন উপলক্ষে সবাইকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান ও অন্যান্য খৃষ্টান সম্প্রদায়ের অনুসারীদের সঙ্গে নিয়ে কেক কাটেন।

মতামত দিন

0 Comments

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password

Register