কাতালোনিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণায় স্বাক্ষর ও স্থগিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গণরায় অনুযায়ী স্পেন থেকে বেরিয়ে গিয়ে স্বাধীনতা অর্জনে কাতালোনিয়ার নেতা কার্লেস পুজদেমন এবং অন্যান্য আঞ্চলিক নেতা একটি ঘোষণায় স্বাক্ষর করেছেন।

তবে কাতালান নেতারা বলেছেন, তাদের এই উদ্যোগ এখনই কার্যকর হচ্ছে না। মাদ্রিদ সরকারের সঙ্গে আলোচনার জন্য কয়েক সপ্তাহ তা স্থগিত থাকবে। অর্থাৎ তারা এখনই স্বাধীনতার ঘোষণা না দিয়ে সমঝোতার ভিত্তিতে স্পেন থেকে আলাদা হতে আলোচনার পথ খোলা রাখলেন।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার কাতালান নেতারা যে ঘোষণায় স্বাক্ষর করেছেন তা একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের স্বাধীনতার দলিল হিসেবে স্বীকৃত হবে। এদিকে কাতালান নেতাদের স্বাধীনতার ঘোষণায় স্বাক্ষরের পরপরই মাদ্রিদে স্পেনের কেন্দ্রীয় সরকার তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

গণভোটে জয়লাভের পর স্বাধীনতা ঘোষণার অপেক্ষায় ছিলেন কাতালানরা। বিবিসি জানিয়েছে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এই রাজ্যে গত ১ অক্টোবরের গণভোটের পর মঙ্গলবার রাজ্যের রাজধানী বার্সেলোনায় আঞ্চলিক পার্লামেন্টে এক ভাষণে পুজদেমন বলেন, ওই জনরায়ের ভিত্তিতে তাদের স্বাধীনতা লাভের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কাতালোনিয়ার মানুষ স্বাধীনতার পক্ষে স্পষ্ট রায় দিয়ে দিয়েছে।

তবে পার্লামেন্টকে তিনি বলেছেন ভোটের কার্যকারিতা আপাতত স্থগিত রাখতে, যাতে স্পেন সরকারের সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা থাকে। কাতালানদের ওপর পুলিশি হামলার নিন্দা জানালেও বর্তমান অবস্থায় উত্তেজনা প্রশমন করার পক্ষে তিনি।

আলোচনা সম্পর্কে পুজদেমন বলেন, তারা স্পেনকে নিজেদের দাবির যৌক্তিকতা বোঝাতে চাইছেন। স্পেনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে শান্তিপূর্ণ বিচ্ছেদ চাইছেন তারা। তিনি বলেন, ‘আমরা দুষ্কৃত ও পাগল নই। আমরা স্বাভাবিক মানুষ। স্পেনের সঙ্গে আমাদের কোনো বিরোধিতা নেই। আমরা শুধু স্বাধীনতা চাই।’

এর আগে ১ অক্টোবর গণভোটের পর কাতালান কর্মকর্তারা জানান, ভোটে প্রায় ৯০ শতাংশ ভোটার স্পেন থেকে কাতালোনিয়ার স্বাধীনতার পক্ষে মত দিয়েছেন। ভোটের দুই দিন পর বার্সেলোনায় স্বাধীনতার পক্ষে মিছিলে লাখো মানুষ অংশ নেয়।

তবে ওই ভোটকে অবৈধ ঘোষণা করেছে স্পেন সরকার। দেশটির সাংবিধানিক আদালত ভোটের ফল স্থগিত করেছে। গণভোটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে কয়েকশ’ লোক আহত হয়। স্বাধীনতা ঘোষণা করলে স্পেনের পার্লামেন্ট সংবিধানের ১৫৫ অনুচ্ছেদ জারি করে কাতালোনিয়ার স্বায়ত্তশাসনে হস্তক্ষেপ করবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

এ ছাড়া সেখান থেকে বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সদরদপ্তর ও নিবন্ধিত কার্যালয় সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। বার্সেলোনায় স্বাধীনতার বিপক্ষেও বিশাল সমাবেশ হয়।

Print Friendly, PDF & Email
 

Notice: Uninitialized string offset: 0 in /home/joynalbd/public_html/bdnewstimes.com/wp-content/themes/bdnewstimes/bothsidebar.php on line 160

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password

%d bloggers like this: