কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে ৩৫ ফুট চওড়ার দুই টিউবের টানেল নির্মাণ কার্যক্রম শুরুর: চায়না কমিউনিকেশন কনস্ট্রাকশন কোম্পানি (সিসিসিসি)।

নেভাল একাডেমি পয়েন্টে কর্ণফুলী নদীর দুই পাড়ে নির্মাণ হতে যাচ্ছে জেটি। প্রকল্পে সুপেয় পানির সংস্থানের জন্য দুই পাড়ে বসছে গভীর নলকূপ, চূড়ান্ত হয়ে গেছে ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, পিডিবি, নৌ বাহিনী, পল্লী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, পানি উন্নয়ন বোর্ড, জেলা প্রশাসনসহ সংস্থাগুলোর ছাড়পত্র নিয়ে শুরু হচ্ছে কাজ। আর কাজকে ত্বরান্বিত করতে গত তিন দিন ধরে টানেলের একটি উচ্চ পর্যায়ের টিম বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাদের সাথে মিটিং করছে।
টানেল নির্মাণের অগ্রগতি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রকল্পটির পরিচালক প্রকৌশলী ইফতেখার কবির বলেন, ‘কাজ শুরু করার আগ মুহূর্তে অনেকগুলো কাজ করতে হয়। আমরা এই সেই কাজ করতে ব্যস্ত। ইতিমধ্যে নৌ বাহিনী থেকে ৮ দশমিক ২ একর ভূমির বরাদ্দ পেয়ে গেছি এবং সেখানে কাজ শুরু হয়ে গেছে। এছাড়া সিডিএ থেকে ১ দশমিক ৩৩ একর, পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে ১ একর, জেলা প্রশাসন থেকে ৩৬ একর ভূমি বরাদ্দ প্রক্রিয়া প্রায় শেষ হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, এসবের পাশাপাশি পুরো প্রকল্পটি বিষয়ে সিডিএ থেকে অনাপত্তিপত্র সংগ্রহ কাজও এগিয়ে যাচ্ছে।
নদীর মধ্যে কাজ কীভাবে শুরু করবেন জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক ইফতেখার কবির বলেন, ‘নদীর দুই পাড়ে দুটি জেটি নির্মাণের জন্য আমরা চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ থেকে অনুমোদন নিয়েছি। প্রাথমিকভাবে সিইউএফএল এর অস্থায়ী জেটি ব্যবহার করবো। আর ওয়াসা যেহেতু পানি দিতে পারবে না তাই নদীর দুই পাড়ে আমরা দুটি গভীর নলকূপ বসাবো। এজন্য পল্লী উন্নয়ন একাডেমির সাথে চুক্তি হয়েছেম, বগুড়ার এই প্রতিষ্ঠানটি শিগগিরই কাজ শুরু করবে।’
টানেলের শহর প্রান্তে সিডিএ’র আউটার রিং রোড ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে রয়েছে। এই দুটি প্রকল্পের সাথে টানেলের সমন্বয় করতে হচ্ছে জানিয়ে সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেন, ‘ সিডিএ’র প্রকল্পগুলোর সাথে টানেলের সমন্বয় না রাখলে সব প্রকল্প হযবরল হয়ে যাবে। তাই সিডিএ-কে টানেলের সাথে সমন্বয় রাখতে হচ্ছে। টানেল হলে দক্ষিণ চট্টগ্রাম বদলে যাবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আনোয়ারায় বিশেষ ইকোনমিক জোন হচ্ছে, মাতারবাড়িতে বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও এলএনজি টার্মিনাল হচ্ছে। এতে দক্ষিণের গুরুত্ব বাড়ছে। বন্দরের সাথে দক্ষিণকে যুক্ত করতে টানেলের বিকল্প নেই।’
এদিকে টানেল নির্মাণের কাজ দ্রুত গতিতে শুরু করতে গত তিন ধরে টানেলের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী ইফতেখার কবিরের নেতৃত্বে একটি টিম চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, পিডিবি, সিইউএফএল, কাফকো, পল্লী বিদ্যুৎ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে সমন্বয় সভা করছে।
পরিকল্পনাবিদদের মতে, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) বাস্তবায়নাধীন আউটার রিং রোড কাম উপকূলীয় বেড়িবাঁধ নির্মাণ কার্যক্রম চলছে দ্রুত গতিতে। আবার রিং রোডের সাগরের ভেতরের অংশে হালিশহর এলাকায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ গড়ে তুলছে বে টার্মিনাল। অপরদিকে নদীর অপর পাড়ে আনোয়ারায় গড়ে তোলা হচ্ছে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল। আর এসবের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করবে এই টানেল। ২০২৩ সালে শেষ হতে পারে টানেল নির্মাণের কাজ।
উল্লেখ্য, কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে ৩৫ ফুট চওড়ার দুই টিউবের টানেল নির্মাণ কার্যক্রম শুরুর জন্য চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং গত ১৪ অক্টোবর ঢাকা সফরের সময় কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে টানেল নির্মাণের কার্যক্রম শুরুর অনুমোদন দেন। প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা ব্যায়ে চীনের এক্সিম ব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়ন হচ্ছে প্রকল্পটি। টানেলের এ প্রান্ত শুরু হবে নেভাল একাডেমি পয়েন্টে এবং অপর প্রান্ত গিয়ে উঠবে কাফকো ও সিইউএফএল এর মাঝখান দিয়ে। ৩ হাজার ৫ মিটার দৈর্ঘ্যের টানেলটির নদীর তলদেশের সর্বনিম্ন ৩৬ ফুট ( ১২ মিটার) থেকে সর্বোচ্চ ১০৮ ফুট (৩৬ মিটার) গভীরে স্থাপন করা দুটি টিউব দিয়ে যাবে। এই দুটি টিউব দিয়ে গাড়ি চলাচল করবে। একেকটি টিউবের চওড়া হবে ১০ দশমিক ৮ মিটার (৩৫ দশমিক ৪৩ ফুট) এবং উচ্চতা হবে ৪ দশমিক ৮ মিটার। একটি টিউবে দুটি স্কেল বসানো থাকবে, সেই স্কেল দিয়ে দুই লেনে গাড়ি চলাচল করবে। একইরকমভাবে আরো একটি টিউব থাকবে পাশে। আর দুটি টিউবের মধ্যে কমপক্ষে ১১ মিটার জায়গা খালি থাকবে। এটি নির্মাণ করবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না কমিউনিকেশন কনস্ট্রাকশন কোম্পানি (সিসিসিসি)।

0 Comments

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password

Register