কক্সবাজারে এসএসসি ২০০৫ ব্যাচের ইফতার সমাবেশ মিলনমেলায় পরিণত

জয়নাল আবেদীন: কক্সবাজারে এসএসসি ২০০৫ সালের ব্যাচের ইফতার সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার হোটেল মিশুকের মেরিডিয়ার রেস্টুরেন্টে কাজী মোহাম্মদ সেলিম, রাশেদুল হক ও তারেকুল হাসান তোহার যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য রাখেন তারিক আজিজ জামি।  তার স্বাগত বক্তব্যে জামি বলেন

“কিছু অনুভূতি প্রকাশ করার মত ভাষা জানা থাকে না, এখানে ব্যাকরণ হার মেনে যায়। প্রাপ্তির সমীকরণ অসীমে গিয়ে ঠেকে।এমন আত্বার সমাগম থেকে বুক ভরে সতেজতা নিয়ে যাওয়া যায়। বহুদিনের দূরত্ব ঘোচে গেল নিমিষে, এখানে চাকচিক্যের বালায় ছিল না; হৃৃদতাপূর্ন আবেশে কাছে টানার আকুতি ছিল।আমিত্ব আর মেকি ভংচং,রঙ দুমেরুতে তাস খেলেছে। বাস্তবতা হার মেনেছিল, আবেগ ছুঁয়ে গেছে শিরায়-শিরায়,হৃদপিন্ডের ধমনীতে।এখানে টনিক হিসেবে কাজ করেছে বন্ধুত্বের রসায়ন। যাকে পুঁজি করে এমন আরেকটি ক্ষণের জন্য সন্ন্যাসী হতে দোষ নাই।”

কাজী মোহাম্মদ সেলিম, তার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলে “বন্ধুত্ব মাঝে মাঝে রক্তের সম্পর্ককেও হার মানায়। ১১ বছর আগের সেই প্রিয় মুখ গুলোকে একসাথে এক ছাদের নিচে আনতে পারাটা প্রত্যেকের আন্তরিকতা ও অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল। মোনাজাত থামানো যায় কিন্তু কোনোমতেই বন্ধুদের কোলাকুলি থামানো যায় নি। বৃষ্টি হার মেনেছিল বন্ধুত্বের কাছে। অন্তর থেকে শ্রদ্ধা জানায় যারা দুইদিকেই ব্যালেন্স করেছে। সবার কমিটমেন্টগুলো লিখে রাখার মত। ছবি গুলা বেঁধে রাখার মত। প্রথম হওয়াতে হয়ত কিছু ভুল হতেও পারে। একমাত্র এই হারামি বন্ধুরাই পারে ভুলের মাঝেও আনন্দ বের করে আনতে। তৌহা এর ব্যাকআপটা দারুণ কাজ দিয়েছে। মহিন এর আগ্রহটা সাহস যোগায়। রাশেদ এর পরিশ্রম বৃথা যায় নি। যারা আসতে পারি নি, তারা হয়ত আগামির জন্য সঞ্চয় করেছে।
আমরা সবাই একটা পরিবর্তন দিয়ে যাচ্ছি। কেউ চাকরি কেওবা পরিবার নিয়ে। ২৫০ টাকা দিয়ে হয়ত আরো ভাল ইফতার পাওয়া যেতে পারে, কিন্তু এই বন্ধুত্ব লাখ টাকা দিয়েও পাওয়া যাবে না। গুলশান ট্রাজেডির জন্য এক মিনিট নিরবতা পালন বন্ধুত্বকেও জাতীয় পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল।
দেখা হবে আবার কোনো একদিনে।”

এসময় বন্ধুদের উদ্দেশ্যে স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য রাখেন এম.এ আজিজ রাসেল, হারুনুর রশীদ মিঠুন, অনির্বাণ, কামরুল, জাহাঙ্গীর, নেজাম উদ্দিন নিজু, তৌহিদ, জাহাঙ্গীর, গিয়াস উদ্দিন, মাঈন, কাওসার ও মোর্শেদ। রাশেদুল হকের সমাপনী বক্তব্যতে অনুভূতি প্রকাশ করার প্রক্রিয়া শেষ হয়। রাশেদ বলেন,

“আজকের প্রত্যেকটা মুহুর্তের শুরুতে আমার সকল ভাবনা গুলোকে বন্ধু তোদের কাছে সপে দিয়েছিলাম।যখন জানতে পারলাম তোরা আমার সব সময় পাশে থাকবি,কাছে রাখবি।তখন দিশেহারা হতে ভয় কি বল্।তাই বন্ধু দিশেহারা হয়ে আমরা অনেক ভুলভ্রন্তি করে ফেলেছি।তাই বলে তোদের কাছ থেকে মাফ চাইবনা।চাইব কি জানিস শুধুই উৎসাহ।কেননা আগামিবার যারা করবে তারা যেন তোদের কথায় সাহস পায়।একটা জিনিস প্রমান করল বন্ধুদের সাথে সময় কাটানোর কি পরিমাণ ক্ষুধা নিয়ে আমরা বসে ছিলাম শুধুমাএ একটা উপলক্ষের আশায়।যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়ছে তা উপেক্ষা করে এসে হয় আমাদের সবার আন্তরিকতার এক বিশাল সমাহার।যারা আসতে পারে নাই আমরা সবাই তাদের অভাবটা অনুভব করেছি।সব স্কুল বন্ধুদের মিলন মেলায় নিজেকে সম্পৃক্ত করতে পেরে অনেক ভাল লাগছে।এই ইফতার সমাবেশ নিয়ে আমরা যার কাছে গেছি সবাই অনেক পসিটিভ ছিল।সবার অনুষ্টান যখন সবাই এসে সার্থক করে তুলে তখন আর কিছুই করার থাকেনা, শুধু আনন্দ ছাড়া।একজন মানুষকে নিজ জায়গা থেকে যদি কিছু না বলি তাহলে বড় বেমানান লাগে।যার জন্য আজকের মিলনমেলা এতটা প্রানবন্ত হয়েছে তিনি আমাদের সেলিম (প্রকাশ প্রফেসর সেলিম)।যে মানুষ একটা প্রোগ্রামের জন্য ঢাকা থেকে কক্সবাজার এসেছে শুধুমাএ বন্ধুদের একটি সুতই গাতার জন্য।তোহা,জামি লাষ্ট মুহুর্তে এসে না ঘুমিয়ে বন্ধুদের এক করার প্রয়াস বৃথা যায়নি।মহিনের উপস্থিতি সাহস জুগিয়েছে।মোর্শেদের ভালবাসা ভাগাভাগির ধরনটির প্রশংসা না করে পারলাম না।সোহাগের চন্ঞলতায় আমরা আবার ক্ষনিকের জন্য হলেও স্কুলে ফিরে গিয়েছিলাম।বোরহানের সোশ্যাল মিডিয়ার কাজ বৃথা যায়নি।পরিশেষে সৌরভের উপস্থিতি মিলনমেলার আনন্দ কানায় কানায় পূর্ণ করে।আগামীতে আরো ভালভাবে হবে ইনসাআল্লাহ।সব বন্ধুদের একটা কথা বলা হয়নি।তোদের সবাইকে আগামী প্রোগ্রাম পর্যন্ত মিস করব।লাভ ইউ বন্ধুরা।”

পরে বন্ধুদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করতে আসেন জাতীয় ক্রিকেট দলের উদীয়মান ক্রিকেটার মুমিনুল হক সৌরভ। অনুষ্ঠানস্থল শৈশবের বন্ধুদের মিলনমেলায় পরিণত হয়। অনেকেই পুরোনো বন্ধুদের পেয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়ে। সকলে মেতে উঠে নানা আড্ডায়। পরে সকলের সম্মতিক্রমে রিইউনিয়ন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

Print Friendly, PDF & Email
 

0 Comments

Leave a Reply

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password

%d bloggers like this: