এনটিআরসির চতুর্দশ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা/১৭ বিজ্ঞপ্তিতে ১-১২তম নিবন্ধিতদের ক্ষোভ

 

মোঃ তারিকুল ইসলাম চৌধুরী, খানসামা,দিনাজপুর প্রতিনিধি: বেসরকারী শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কতৃপক্ষ গত ১ জুন বৃহস্পতি বার নতুন করে চতুর্দশ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা-২০১৭ এর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এতে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে দিনাজপুরসহ সারা বাংলাদেশের এনটিআরসিএ ১-১২ তম শিক্ষক নিবন্ধন প্রাপ্তরা। উল্লেখ্য গত বছরের ২০ জুলাই বেসরকারী স্কুলে শিক্ষক নিয়োগের উদ্দেশ্যে ১-১২ তম নিবন্ধনিতদের নিকট দরখাস্ত আহবান করে এবং একই বছরের ৯ অক্টোবর নির্বাচিত প্রার্থীদের প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক তালিকা প্রকাশ করে। বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধিত নিয়োগবঞ্চিত কেন্দ্রীয় ঐক্য পরিষদের সভাপতি মো: জাহাঙ্গীর আলমের সাথে কথা হলে তিনি জানান, ১-১২ তম নিবন্ধন প্রাপ্তদের কোন সুরাহা এবং ১৩ তম প্রার্থীদের ফলাফল প্রকাশ না করেই এনটিআরসিএ’র হঠকারী সিদ্ধান্তে জাতীর শিক্ষিত ও শিক্ষক মনোভাবের সন্তানেরা কঠিন ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। তিনি আরো বলেন, পৃথিবীর এ্যামন কোন দেশ নেই যেখানে শিক্ষাগত যোগ্যতা কিংবা পরীক্ষায় উত্তীর্ণের সনদ সময়ের মাপকাঠিতে বাধা আছে। তাহলে এনটিআরসিএ কিভাবে তার স্বেচ্ছাচারীতায় বার বার নিয়ম পাল্টাতে পারে? ২০০৫ সালে উক্ত সনদের মেয়াদ প্রথমবার ৫ বছরের জন্য, এরপর সারাজীবন এবং ২০১৫ সালে ৩ বছরের জন্য নিয়ম করে। বৃহত্তর দিনাজপুর ১-১২ নিবন্ধনধারীদের রীট আহবায়ক এমদাদুল হক বলেন, আমরা কী বাংলাদেশে জন্মগ্রহন করে পাপ করেছি? উচ্চ শিক্ষা অর্জন করে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় সনদ পেয়েও চাকরি নিশ্চিত হচ্ছে না। যোগ্যতা অর্জন করে চাকরি না পাওয়ার চেয়ে বিড়ম্বনা আর নেই। কি যেন অজানা কারনে নিবন্ধনধারীদের স্বপক্ষে কেউ মুখ খুলছে না তা বোধগম্য হচ্ছে না। এদিকে ‘বাংলাদেশ বে-সরকারী শিক্ষক নিবন্ধিত নিয়োগবঞ্চিত ঐক্য পরিষদে’ অগ্নিকন্যা খ্যাত খানসামা উপজেলার নাজমা আহমেদ নূরী বলেন, এনটিআরসি যেহেতু সনদ দিয়েছে, সেহেতু চাকরি তাদেরকেই দিতে হবে। সনদ পাওয়ার পর চাকরি আমাদের মৌলিক অধিকার। আমি ১৩ তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় স্কুল, কলেজ উভয় পরীক্ষায় অবতীর্ণ হই। কিন্তু পর্যাপ্ত নম্বর পাওয়ার পরও স্কুল পর্যায়ে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হতে পারিনি। জানা যায়, সে এসএসসি থেকে স্নাতকোত্তর প্রতিটি পর্যায়ে প্রথম বিভাগ পেয়েছে। সে দ্বাদশ শিক্ষক নিবন্ধনে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে নিবন্ধন প্রাপ্ত হয় এবং খানসামা উপজেলায় ১ম স্থান লাভ করেও শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় প্রবেশ করতে পারছে না। কথা হয় দিনাজপুর পাকেরহাটের আরেক নিবন্ধনধারীর সাথে। সে ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর করে দীর্ঘদিন থেকে শিক্ষকতা (প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান) পেশায় নিয়োজিত। ডোনেশনের অভাবে কোন এমপিও ভুক্ত প্রতিষ্ঠানে এত দিনের লালিত স্বপ্ন পূরন হয়নি। সে ৭ম নিবন্ধন পরীক্ষায় ৯০ শতাংশের অধিক নম্বর প্রাপ্ত হয়। নিজ উপজেলায় পদ শূন্য না থাকায় ফলাফল তালিকায় তার নাম আসেনি। এদিকে ১১তম নিবন্ধনধারী পার্বতীপুরের আসাদুজ্জামান, ১০ তম নিবন্ধনধারী ফুলবাড়ীর আরিফুল ইসলাম, ৯ম নিবন্ধনধারী বিরলের নিবাস সরকার, বীরগঞ্জের ইকবাল হোসেন, চিরিরবন্দরের কিশোর কুমার, শাহাজান আলী, আরিফুজ্জামান, নুরুজ্জামান হক, নীলফামারী সদর উপজেলার আনোয়ার হোসেন, সাত্তার, বুলবুল আহমেদ এবং আরো অনেক নিবন্ধনধারী এনটিআরসিএ’র হঠকারী সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ এবং একই সাথে হতাশ হয়েছেন। এদের মধ্যে ৬ষ্ঠ নিবন্ধনধারী আরিফুজ্জামান বলেন, ১-১২ তম নিবন্ধনধারীদের নিয়োগ নিশ্চিত না করেই ১৩ তমদের পরীক্ষা নেয় যার ফলাফল আজও প্রকাশ হয়নি। উল্টো এনটিআরসিএ পুনরায় শিক্ষক নিবন্ধনের সার্কুলার দেয়। এর অর্থ স্বেচ্ছাচারী প্রতিনিষ্ঠানটি আদালতের রায়কে থোড়াই কেয়ার করে একটার পর একটা সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। নিবন্ধন ধারী কিশোর কুমার জানান, গত ২০১৬ সালের শিক্ষক সিলেকশনে এনটিআরসিএ প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য দরখাস্ত ফি ১৮০ টাকা করে নেয়। এতে প্রায় ১৩ লাখ আবেদন পড়ে যা হিসাব করলে প্রায় ২৩৪০০০০০০ টাকা হয়। সে আরো জানায় যে, সে স্কুল ও কলেজ মিলে ৪০ টি প্রতিষ্ঠানে আবেদন করে। এ ব্যাপারে ৩ মে শনিবার রাতে বৃহত্তর দিনাজপুর ১-১২ তম নিবন্ধধারীদের আহবায়ক মো: এমদাদুল হক জানান, রমজান মাসেই দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সামনে সংবাদ সম্মেলনসহ মানববন্ধন করা হবে এবং দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হবে। পরবর্তীতে বাংলাদেশ বে-সরকারী শিক্ষক নিবন্ধিত নিয়োগ বঞ্চিত কেন্দ্রীয় ঐক্য পরিষদের প্রচার সম্পাদক মিজানুর রহমান জীবনের সাথে মুঠো ফোনে কথা হলে তিনি জানান, গত ১৯ মে ঢাকার শাহাবাগে১-১২তম শিক্ষক নিবন্ধিতরা বাংলাদেশের বে-সরকারী স্কুল- কলেজে ন্যায্য নিয়োগের দাবীতে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচী করেছে। নতুন সার্কুলারের বিষয়ে কেন্দ্রীয় পরিষদের পক্ষ থেকে ঢাকায় দফায় দফায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে কার্যকরী আলোচনা সভা। প্রয়োজনে সারা দেশে ১-১২ তম শিক্ষক নিবন্ধিতদের নিয়ে দূর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

Print Friendly, PDF & Email
 

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password

%d bloggers like this: