উবার নিয়ন্ত্রণ বা বন্ধ করার সক্ষমতা বিআরটিএ রাখে কী?

সারা বিশ্বে তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়নের সাথে সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশও এগিয়ে যাচ্ছে। আজ প্রায় সকল ক্ষেত্রেই তথ্য প্রযুক্তি ছাড়া চলছে না। দেশে প্রতি বৎসর স্মার্ট ফোন আমদানী বৈধ-অবৈধভাবে হয়ে থাকে প্রায় ৩.৫ কোটি। এতেই অনুমেয় এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা কত? মানুষের দৈনন্দিন জীবনের প্রায় ৮৫% ভাগ কাজ সম্পন্ন হচ্ছে মুঠোফোন ও ইন্টারনেট এর মাধ্যমে। কিন্তু আমাদের দেশের সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহ এই প্রযুক্তি আগ্রাসন মোকাবেলায় কতটুকু সক্ষম তা বুঝা গেল ২২ শে নভেম্বর ঢাকায় উবার চালুর ঘোষণার পর। ২৫ শে নভেম্বর বিআরটিএ এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানান যে, উবার অবৈধ এবং এটি চালানো আইনগত শাস্তিযোগ্য দন্ডনীয় অপরাধ। কারণ দেশের টেক্সি সেবার জন্য ২০১০ সালে টেক্সি ক্যাব গাইড লাইন চালু আছে। ২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোনিয়ায় যাত্রা শুরু করে উবার। গত ৭ বৎসর বিশ্বের প্রায় ৫ কোটি দেশে এই সেবার কার্যক্রম বিস্তৃত রয়েছে। এর বর্তমান মূলধন প্রায় ৬৮০০ কোটি ডলার। যা বিশ্বের সবচাইতে মূল্যবান স্টার্ট অ্যাপ বা নতুন ব্যবসার উদ্যোগ। প্রশ্ন হচ্ছে- এই সেবা সম্পর্কে ৭ বৎসর বিআরটিএ কি কিছুই জানতো না? এই সেবার যেমন জনপ্রিয়তা রয়েছে তেমনি এর অপব্যবহারের ফলে রয়েছে বেশ কিছু সমস্যা এবং দেশের প্রচলিত ট্যাক্সি সেবার সাথে সাংঘর্ষিক। টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ করা বা পরিচালনা করার কোন সক্ষমতাই বিআরটিএ রাখে না। এই সেবা পরিচালনা করার জন্য বা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বাংলাদেশে টেলিযোাগযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) রয়েছে। বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং এর লাইসেন্স প্রদান করে থাকে বিটিআরসি। কিন্তু হিসাব এবং পর্যবেক্ষণ করে থাকে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিটিআরসি এবং অপারেটরদের মধ্যে একটি চুক্তিও রয়েছে। কিন্তু অ্যাপ ভিত্তিক পরিবহন সেক্টর পরিচালনা করার জন্য বিআরটিএ ও বিটিআরসি-র মধ্যে কোন প্রকার চুক্তি বা সমন্বয় নাই বলে আমরা যতদূর জানতে পেরেছি। তাই আইন করেই শুধু অ্যাপ বা তথ্য প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ করতে বিআরটিএ কতটুকু সক্ষম হবে তা নিয়ে আমাদের সন্দেহ রয়েছে। আগামী ভবিষ্যতে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার করে গণপরিবহনের কি উন্নয়ন করা যায় তার জন্য যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করবে বিআরটিএ বলে আমরা মনে করি। যেমন- সি.এন.জি বা টেক্সি ক্যাবে বা বাসের ভাড়া সংক্রান্ত জটিলতা দূর করতে যাত্রীগণ তাৎক্ষনাত অভিযোগ ও প্রতিকার পেতে পারে তার ব্যবস্থা করা। আবার সড়ক দূঘর্টনায় নিহত বা আহত ব্যক্তিদের দ্রুত সনাক্ত করে সাহায্য ও উদ্ধার করা যায় এমন ধরনের অ্যাপ তৈরি করে গণপরিবহনের সাথে সংযুক্ত করা। এতে করে প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনার পরিমাণ নিহত ও আহত ব্যক্তিদের তথ্য সঠিকভাবে নির্ণয় করা যাবে বলে আমরা মনে করি। বাংলাদেশে জনসংখ্যার তুলনায় গণ পরিবহনের সংখ্যা (বিআরটিএ হিসাব অনুযায়ী ২৭,০০,০০০ লক্ষ ফিটনেস গাড়ীর বিপরীতে বর্তমান জনসংখ্যার অনুপাতে প্রতি ৬০ জনের জন্য ১টি গাড়ীর ব্যবস্থা রয়েছে)। উন্নত দেশে প্রতি ২ জনের জন্য ১টি গাড়ীর ব্যবস্থা রয়েছে। বর্তমানে চায়নাতেও প্রতি ৫ জনের জন্য ১টি গাড়ীর ব্যবস্থা রয়েছে। ঢাকায় প্রথম ১৯৯০ সালে সি.এন.জি চালিত অটো রিক্সা চালু করা হয়। যার মেয়াদ ২ বার ইতিমধ্যে বৃদ্ধি করা হয়েছে। বর্তমানে এসকল সি.এন.জি অবৈধভাবে চলাচল করলেও এর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। আবার পুরাতন ট্যাক্সি ক্যাব তুলে তমা গ্রুপ ও আর্মি ট্রাস্টের নামে যে আধুনিক ট্যাক্সি ক্যাব নামানো হলো তার ভাড়া সাধারণ মানুষের নাগালের বাহিরে হলেও বিশেষ শুল্কে আনা এ সকল ট্যাক্সি ক্যাবের রং পরিবর্তন করে উচ্চ মূল্যে বিক্রয় করা হয়েছে বলে অনেকেরই ধারণা। তাই বর্তমানে ঢাকার গণ পরিবহনের ও ট্যাক্সি ক্যাবের যে সংকট তা দূর করার জন্য উবারের মতো একটি অ্যাপ ভিত্তিক গণ পরিবহন অত্যন্ত প্রয়োজন। তাই সরকারের উর্ধ্বতন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই উবারের তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে গণ পরিবহন সার্ভিসের যে ব্যবস্থা তা দ্রুত সমাধান করে জনগণকে তথ্য প্রযুক্তির আওতায় গণ পরিবহন সেবা দিতে তড়িৎ উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।

0 Comments

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password

Register