breaking news New

ইয়েমেনে দুই মসজিদে হামলা, নিহত ১৩৭, দায় স্কীকার আইএসের

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইয়েমেনের রাজধানী সানার দু’টি মসজিদে ও সাদা প্রদেশের হাউথি ঘাঁটিতে আত্মঘাতী বোমা হামলার দায় স্বীকার করেছে আইএস। এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩৭-এ দাঁড়িয়েছে। শুক্রবার এক অডিও বার্তায় এ হামলার দায় স্বীকারের পাশাপাশি এতে নিজেদের ৫ জন সদস্য অংশ নেয় বলে জানায় আইএস। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়, এই হামলার সাথে আইএসের জড়িত থাকার বিষয়টি নিয়ে এখনো নিশ্চিত হতে পারছে না তারা। এদিকে, এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন।

শুক্রবার তীব্র লড়াইয়ের পর আবারো খুলে দেয়া হয় ইয়েমেনের এডেন শহরের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। বৃহস্পতিবার হাউথি বিদ্রোহী ও নিরাপত্তা বাহিনীর যুদ্ধ শেষে বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ নিতে সমর্থ হয় সরকারি বাহিনী। তবে ভয়াবহ এই সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিমানবন্দরের কয়েকটি টার্মিনাল, গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার।
প্রেসিডেন্ট আবদ রাব্বু মানসুর হাদি রাজধানী সানার গৃহবন্দী দশা থেকে পালিয়ে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি এডেন শহরে আশ্রয় নেয়ার পর থেকে সেখানেও হাউথি ও সেনাদের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে সানা থেকে একটি যুদ্ধ বিমান রওনা হয়ে এডেনের রিপাবলিকান ভবনে বোমা হামলা চালায়। অবশ্য এই ঘটনাকে শ্রেফ একটি হুমকি হিসেবে দেখছে ইয়েমেনের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক বাসিম আল সাফি বলেন, ‘এটা একটি সাংকেতিক হামলা। হাউথি বিদ্রোহীরা এমন বড় ধরণের হামলা চালালে তার এর যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে তার সাথে পেরে উঠবে না এই জঙ্গি গোষ্ঠী। কারণ সৌদি সরকার প্রেসিডেন্ট মানসুর হাদির প্রতি সমর্থন জানিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এডেনে বিমান হামলা চালালে এর ফলাফল ভালো হবে না।’
ইয়েমেনের রাজধানী সানার দু’টি মসজিদে ও সাদা প্রদেশের হাউথি ঘাঁটিতে আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা এপর্যন্ত ১৩৭ ছাড়িয়ে গেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে আরো বাড়তে পারে মৃতের সংখ্যা। হাউথিদের বরাত দিয়ে গণমাধ্যম জানায় সানার এই দুটি মসজিদই শিয়া বিদ্রোহীদের দখলে ছিলো।
হাউথি নেতা লাওয়াল শামি বলেন, ‘যারা হামলা চালিয়েছে তারা নিঃসন্দেহে খুব সংগঠিতভাবে এই হামলা পরিচালনা করেছে। প্রথম হামলার পর আমরা পুরোপুরি হচকে গিয়েছিলাম। তারই সুযোগ নিয়ে ২য় দফা হামলা চালায় তারা। আমাদের শতাধিক শিয়া ভাই শহীদ হয়েছে এই ঘটনায়। হাসপাতালে যারা রয়েছে তাদের অনেকের জন্য রক্ত প্রয়োজন।’
শুক্রবার ভয়াবহ এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে শুক্রবার বিবৃতি দেয় আইএস। তবে আইএসের এই বিবৃতির সত্যতার বিষয়টি নিয়ে এখনো নিশ্চিত নয় ওয়াশিংটন। শুক্রবার হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বোমা হামলার ঘটনায় নিহতদের প্রতি শোক জানিয়ে বলা হয়, ইয়েমেনে সন্ত্রাসী তৎপরতা রোধ করতে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।
হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র জশ আর্নেস্ট বলেন, ‘সানায় চরমপন্থিদের উত্থানে আইএসের যোগসাজশ রয়েছে কিনা এই বিষয়ে আমরা এখনো নিশ্চিত নই। এই হামলার বিষয়েও তাদের স্বীকৃতির বিষয়টি স্পষ্ট নয়। তবে ইয়েমেনে সন্ত্রাসী তৎপরতা নিয়ে উদ্বিগ্ন মার্কিন প্রশাসন।’
ইয়েমেনের এই ঘটনায় শোক ও নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘও। এর আগে বিশ্বসংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়, অবিলম্বে ইয়েমেনে চলমান সঙ্কট সমাধান করতে না পারলে, দেশটিতে ইরাক-সিরিয়ার মত গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়তে পারে।

মতামত দিন

0 Comments

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password

Register