Notice: Use of undefined constant REQUEST_URI - assumed 'REQUEST_URI' in /home/joynalbd/public_html/bdnewstimes.com/wp-content/themes/bdnewstimes/functions.php on line 73
আমার মায়ের হাসি – bdNewstimes.com | All Time Latest News

আমার মায়ের হাসি

জাকের আলী শুভ: শুরুটা হয়েছিল সেই পুরাণ গ্রীক থেকেই। দেব-দেবীদের সম্মানে নানা রকম প্রার্থনা তখনকার সময়ে খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার ছিল। সপ্তম শতাব্দীতে কবি হেসিওড এর সৃষ্ট চরিত্র গয়া। গয়া হল আকাশ, সমুদ্র, পাহাড়-পর্বত এবং অত্যাচারি ঈশ্বর টিটানস এর জন্মদানকারী। তাঁরই কন্যা রেহা। রেহাকে উদ্দেশ্যে করেই বিভিন্ন উৎসব পালন করার রেওয়াজ চালু হয়। পরবর্তীতে খ্রিস্ট সমাজে যীশুর মাতা মেরীকে কেন্দ্র করেও ওই একই রকম উৎসব পালিত হত। এরপর ১৮৭২ সালে আমেরিকার জুলিয়া ওয়ার্ড হো মায়েদেরকে উৎসর্গ করে আলাদা একটা দিন পালনের আয়োজন করেন। এটাই মা দিবসের মাইলফলক হিসাবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

যে ভাষাতেই হোক পৃথিবীর মধুরতম শব্দটি মা। এ বিষয়ে কোন দ্বিমত নেই। সেই মায়ের জন্য নির্দিষ্ট একটা দিন আলাদা ভাবে পালন করার মধ্যে অন্যরকম এক সুখ অনুভূত হয়। মা-পাগল প্রতিটি সন্তানই এক বাক্যে তা মেনে নেয়। অনেকে হয়ত বিষয়টি নিয়ে দ্বিমত পোষণ করে বলতে পারেন, সব দিনইতো মায়ের জন্য, এখানে আলাদা করে একটা দিন পালন করার কি আছে? হ্যাঁ, আপনাদের কথাটি একশভাগ সত্য এবং বোধকরি সকলে উচ্চবাক্যে তা মেনে নেবেন। কিন্তু একটা দিন অন্যভাবে মায়ের কাছে থেকে অনুভূতির সবকটা জানালা খুলে মাকে চমকে দিয়ে যদি বলি- মাগো তোমাকে বড্ড বেশি ভালোবাসি। এক্ষেত্রে কারও কোন আপত্তি থাকার কথা নয়। এটা আমাদের ধারণা নয়, বিশ্বাস। মা দিবসের শুরুর কথা শুরুটা হয়েছিল সেই পুরাণ গ্রীক থেকেই। দেব-দেবীদের সম্মানে নানা রকম প্রার্থনা তখনকার সময়ে খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার ছিল। সপ্তম শতাব্দীতে কবি হেসিওড এর সৃষ্ট চরিত্র গয়া। গয়া হল আকাশ, সমুদ্র, পাহাড়-পর্বত এবং অত্যাচারি ঈশ্বর টিটানস এর জন্মদানকারী। তাঁরই কন্যা রেহা। রেহাকে উদ্দেশ্যে করেই বিভিন্ন উৎসব পালন করার রেওয়াজ চালু হয়। পরবর্তীতে খ্রিস্ট সমাজে যীশুর মাতা মেরী কে কেন্দ্র করেও ওই একই রকম উৎসব পালিত হত। এরপর ১৮৭২ সালে আমেরিকার জুলিয়া ওয়ার্ড হো মায়েদেরকে উৎসর্গ করে আলাদা একটা দিন পালনের আয়োজন করেন। এটাই মা দিবসের মাইলফলক হিসাবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

এ্যানা এম. জারভিস্ একজন স্কুল শিক্ষিকা। তিনিই প্রথম তাঁর মা এ্যানা মারিয়া রীভস্ জারভিস্ এর প্রতি সম্মান জানাতে জাতীয় পর্যায়ে আন্দোলন শুরু করেছিলেন। ১৯০৫ সালে মায়ের মৃত্যুর পর তাঁর কর্মবহুল জীবনের স্মৃতিকে ধরে রাখতে এ্যানা একটা বর্ণাঢ্য ক্যাম্পেইন করেন। উক্ত ক্যাম্পেইনকে স্বাগত জানিয়ে ছিলেন সেই সময়কার আমেরিকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জন ওয়ানমেকার, রাজনীতিবিদগণ এবং স্বয়ং প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট। যার ফলে তাঁর আন্দোলন চাঙ্গা হয়ে ওঠে, এবং সফলতার একটা দ্বার উন্মোচিত হয়। এই আন্দোলনকে বাস্তবে রূপদান করতে তিনি বিভিন্ন সেমিনার করলেন। অনেক স্কুলে এবং চার্চে তিনি তাঁর ইচ্ছার কথা প্রচার করতে আরম্ভ করলেন। একটি সান্ডে স্কুলে বক্তব্যদানে এ্যানা বলেছিলেন- আমি আশা করি এবং প্রার্থনা করি যে, কেউ না কেউ কোন না কোন সময়ে মায়েদের স্মৃতিকে সঠিক ভাবে উপলদ্ধি করবেন। কারণ মানুষের জন্য অনেক দিন থাকলেও মায়েদের জন্য বিশেষ কোন দিন নেই ।

প্রথমে মা দিবস উদযাপিত হয় একটি চার্চে। মার প্রতি সম্মানার্থে সেই অনুষ্ঠানে এ্যানা তাঁর মাকে শ্রদ্ধা জানাতে হাতে করে নিয়ে এসেছিলেন মায়ের প্রিয় ফুল। যা বহন করছিল শুদ্ধতা, মমতা, পবিত্রতা এবং মায়ের প্রতি আনুগত্যতা। অবশেষে ১৯১৪ সালে আমেরিকান প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন এর ঘোষণার মধ্য দিয়ে এ্যানার এতোদিনের পরিশ্রম সাফল্যের মুখ দেখে। প্রেসিডেন্ট মায়েদের প্রতি সম্মান জানাতে মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার সরকারী ছুটি ঘোষণা করেন।

এভাবেই ধীরে ধীরে মা দিবস একটি জনপ্রিয় বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। বিভিন্ন দেশ দিবসটি নিয়ে বেশ ভাবনা চিন্তা করতে থাকে। দিবসটি উদযাপনের জন্য প্রথমে মাকে চিঠি লেখা, কার্ড, ফুলসহ নানা উপহার সামগ্রী দেওয়ার প্রচলন শুরু করা হয়। এ্যানা চলে গেছেন। কিন্তু থেমে থাকেনি তাঁর প্রদর্শিত পথে বিচরণ। মা দিবস পালিত হতে থাকে দেশে দেশে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে দিবসটি ভিন্ন ভিন্ন সময়ে পালিত হয়। ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ইটালী, তুরস্ক, অস্ট্রেলিয়া, এবং বেলজিয়ামে দিবসটি মে মাসের দ্বিতীয় রবিবারেই পালিত হয়ে আসছে।

আমাদের প্রাণের দেশ বাংলাদেশ। পৃথিবীর জনবহুল দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। আমরা পরস্পরকে ছুঁয়ে আছি, শত অভাবের মধ্যেও টিকে আছি, এটা কিভাবে সম্ভব হয়েছে? একবাক্যে বলি- আমরা ভালোবাসতে জানি, পরস্পরের দুঃখকে ভাগাভাগি করতে পারি, মানুষকে বুকে টানতে পারি। হিসাব মতে এ বছর (২০১৮) ১৩ মে পড়ছে মা দিবস। বিশ্বের কোটি কোটি মায়েদেরকে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা। বাংলাদেশে যে সমস্ত মায়েরা স্বাধীনতার জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন তাদেরকেও স্মরণ করতে চাই শ্রদ্ধাভরে। মা দিবস হোক স্নেহে মায়া মমতায় ভরা ভালোবাসার দিন।

Print Friendly, PDF & Email
 

Login

Welcome! Login in to your account

Remember me Lost your password?

Lost Password

%d bloggers like this: